default-image

যশোরে আজ রোববার ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় এটি চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলে জানায় আবহাওয়া দপ্তর। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যশোরে একই রকম তাপমাত্রা থাকার কথা রয়েছে। যশোরের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া বিভাগ এসব তথ্য জানায়।

আবহাওয়া বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরে যশোরে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। তীব্র দাবদাহের কারণে যশোরে পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে। এ কারণে যশোর শহরের ৯০ শতাংশ হস্তচালিত নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। গভীর নলকূপেও পানি কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু মানুষ নয়, গোটা প্রাণীকূল যেন দাবদাহে পুড়ছে।

এদিকে ফসলের মাঠে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুম চলছে। কৃষকেরা সকাল থেকে তীব্র রোদে সারা দিন মাঠে ধান কেটে মাড়াই-ঝাড়াইয়ের কাজ করছেন। প্রচণ্ড গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

আজ দুপুরে ঘরের বাইরে কাঠফাটা রোদ দেখা গেছে। লকডাউন শিথিল হলেও রাস্তায় লোকজন কম চলাচল করছেন।

বিজ্ঞাপন

যশোর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের প্রায় তিন লাখ মানুষের খাওয়ার পানির জোগান দেওয়ার জন্য পৌরসভার ২৭০টি তারা পাম্প আছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় একদমই কম। এগুলো দিয়ে শহরের মানুষের খাওয়ার পানির চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। পৌরসভার পাইপলাইনের খাওয়ার অনুপযোগী পানির ওপর মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে। এ পানি ফুটিয়ে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন অনেকে।

যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি) কামাল আহমেদ বলেন, ভূগর্ভের পানির স্তর ৪০ ফুটের মতো নিচে নেমে গেছে। এ কারণে ৬ নম্বর নলকূপে অনেক আগেই পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। গভীর নলকূপেও পানি কম পাওয়া যাচ্ছে। খাওয়ার পানির জোগান দেওয়ার জন্য পৌর এলাকায় ২৭০টির মতো তারা পাম্প আছে। গৃহস্থালিতে ব্যবহারের জন্য পাইপলাইনে পানি সরবরাহ এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এ সংকট সহসা কাটবে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে পাড়ায় পাড়ায় নলকূপের পাশে দীর্ঘ লাইন পড়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে শহরবাসীকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কারণ, বাসাবাড়ির ব্যক্তিগত সাব-মার্জিবল পাম্পেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন