বিজ্ঞাপন

মাহফুজুরের বাবা হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করে থানায় অভিযোগ দেন। পুলিশ পুনর্বাসনকেন্দ্রে গিয়ে সিসিটিভির ফুটেজ জব্দ করে।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সিসিটিভির ফুটেজ জব্দ করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, একটি কক্ষে ১২ থেকে ১৪ জনে মিলে মাহফুজুরকে নির্মমভাবে পিটুনি দিচ্ছেন। মারপিটের কারণে একপর্যায়ে তিনি মল ত্যাগ করে ফেলেন। তখন তাঁকে দিয়েই তা পরিষ্কার করানো হয়। পরে শৌচাগারে নিয়ে তাঁর মুখে পানি ঢেলে আবার নির্যাতন করা হয়। এমন অমানবিক নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাসুম করিম, আশরাফুল কবিরসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত মাহফুজুরের বাবা মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাহফুজুর মাদক সেবন করত। সুস্থ–স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ২৬ এপ্রিল তাকে যশোরের মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। শনিবার বিকেলে খবর আসে যে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানের লোকজন মারপিট করে মেরে ফেলেছেন।’

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তন্ময় বিশ্বাস বলেন, শনিবার দুপুরে মাদকাসক্ত নিরাময়কেন্দ্র থেকে একটি লাশ জরুরি বিভাগে আনা হয়। লাশটি বহনকারী ও নিহত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ না করেই কৌশলে তাঁরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লাশের পিঠ ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন আছে।

আটক অবস্থায় কেন্দ্রের পরিচালক মাসুম করিম বলেন, মাহফুজুর কেন্দ্রের চিকিৎসা প্রার্থী (নিবাসী) একজনকে ধাক্কা দেন। ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক জন মিলে মাহফুজুরকে মারধর করেন। এতে তিনি মারা যান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন