যানবাহনশূন্য দৌলতদিয়া ঘাট
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের চিত্র দুই সপ্তাহ ধরে অনেকটা পাল্টে গেছে। সাধারণত এই নৌপথে ফেরি পারের জন্য গাড়ির সারি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও এখন গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে ফেরি। এখন প্রায়ই যানবাহনশূন্য দেখা যাচ্ছে দৌলতদিয়া ঘাট।
আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটে হাসনাহেনা ইউটিলিটি ফেরি গাড়ির জন্য প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষায়। ঘাটে কোনো ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস বা কোনো যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় নেই। হঠাৎ দুই-একটি প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রাক আসার পর তা সঙ্গে সঙ্গে ফেরিতে উঠে যাচ্ছে। তা ছাড়া মহাসড়কও যানবাহনশূন্য।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্র জানায়, গত সোমবার সকাল ৬টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া থেকে ফেরিগুলো ৪৬৯টি ট্রিপে বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে পাটুরিয়া গেছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাস ১ হাজার ২১০টি, ট্রাক ৩ হাজার ৫৭৮টি, ছোট বা ব্যক্তিগত গাড়ি ২ হাজার ৯০৮টি ও মোটরসাইকেল ৮৬টিসহ সব মিলিয়ে ৭ হাজার ৭৮২টি যানবাহন দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছায়। ১৫ দিন আগেও ৪৮ ঘণ্টায় শুধু দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ৯-১০ হাজার যানবাহন নদী পার হয়ে গেছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া প্রান্তে পাঁচটি ফেরি ঘাট সচল আছে। এর মধ্যে ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে যানবাহনগুলো ফেরিতে ওঠানামা করছে। ২১টি ফেরির মধ্যে ১৯টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে। বাকি ২টি ইউটিলিটি ফেরি মাধবীলতা ও চন্দ্রমল্লিকা পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামতে আছে।
যশোর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী দূরপাল্লার একটি বাসের চালক আবুল হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে ঘাট দিয়ে যাতায়াতের সময় যানজট মুক্ত দেখেছেন। সরাসরি বাস নিয়ে ফেরিতে উঠতে পারছেন। এতে বাসযাত্রীরা অনেক খুশি।
ঝিনাইদহ থেকে কাঠবোঝাই ট্রাক নিয়ে গাজীপুরে যাচ্ছিলেন ট্রাকচালক হেলাল মাহমুদ। দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে আলাপকালে মাহমুদ বলেন, ‘ভাবতেও পারিনি সরাসরি ফেরিতে উঠতে পারব। নিজের কাছে খুবই ভালো লাগছে। ঘাটের এমন চিত্র এর আগে খুবই কম দেখেছি। বর্তমানে ঘাটে যানজটে থাকতে হচ্ছে না, তাই খরচও কম হচ্ছে। মালিকপক্ষও খুশি।’
দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শিহাব উদ্দিন বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে ঘাটে যানবাহনের চাপ খুবই কম থাকছে। ধারণা করা হচ্ছে, গরমের কারণে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। যে কারণে ঘাট ফাঁকা থাকছে। মাঝেমধ্যে ফেরিগুলোকে গাড়ির জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।