default-image

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি টি জামান নিকেতাকে উদ্দেশ করে বগুড়া জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেছেন, ‘আপনি কোথায় রড কেটেছেন। আমিনুল-রাসেলকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সব প্রমাণ আছে। আমরা কাজে বিশ্বাসী। যেদিন ধরব তুলে নিয়ে করতোয়ায় ফেলে দেব।’

আজ শনিবার দুপুরে বগুড়ার চারমাথা এলাকার একটি মোটেলে রাজশাহী বিভাগীয় মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটি আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় আবদুল মান্নান এসব কথা বলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাংসদ শাজাহান খানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলমকে ‘ডাকাত’ বলে সম্বোধন করেন তিনি।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের কার্যালয়, বাস টার্মিনাল দখলসহ নির্বাচিত কমিটিকে উৎখাত চেষ্টা, অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙচুর এবং মালিক-শ্রমিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ওই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

সমাবেশ থেকে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মঞ্জুরুল আলমসহ হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রত্যাহার, মালিক সংগঠনের নেতা ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলামসহ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এসব দাবি আদায় না হলে আগামী ৮ মার্চ থেকে রাজশাহী বিভাগে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে।

রাজশাহী বিভাগীয় মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আবদুল মান্নান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা শাজাহান খানের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার গাড়ি থেকে, আমার শ্রমিকের কাছ থেকে আমি টাকা তুলব। আমাদের কেন চাঁদাবাজ বলা হচ্ছে বারবার? আমার মালিক-শ্রমিক মারা গেলে ৫০ হাজার টাকা করে দিচ্ছি। আমরা ৫ হাজার কোটি টাকা ইনকাম ট্যাক্স দিই সরকারকে। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় বসে শুধু দুই–চারজন মন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে আমাদের সান্ত্বনা দেন। কিসের ফেডারেশন নেতা শাজাহান ভাই আপনি?’

বিজ্ঞাপন

আবদুল মান্নান বলেন, ‘একজন পুলিশ সুপার শ্রমিকের কল্যাণ তহবিলে ২০ টাকাও তুলতে দেন না। অথচ ঢাকায় থেকে আপনারা ঠিকই টাকা তুলবেন। আমাদের সম্মান কই? কিসের মালিক সমিতি, কিসের ফেডারেশন? আমরা কি ব্যক্তিগত গাড়িতে টাকা তুলতে গেছি? আমাদের কেন বারবার চাঁদাবাজ বলা হচ্ছে?’

বগুড়ায় পরিবহনে চাঁদাবাজির প্রতিবেদন ছাপা হওয়ায় দুটি পত্রিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল মান্নান বলেন, ‘শ্রমিকের কল্যাণে ২০ থেকে ৩০ টাকা তুললে চাঁদাবাজি হয়ে যায়? কেন বারবার আমাদের চাঁদাবাজ বলা হয়? প্রথমে পত্রিকার বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে। চাঁদাবাজির ব্যাখ্যা দিতে হবে। চাঁদাবাজির দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব কোথায় দেখলেন আপনারা?’

বক্তব্যের একপর্যায়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলমের উদ্দেশে আবদুল মান্নান বলেন, ‘উনি কি মোটর মালিক গ্রুপে উড়ে আসছিলেন। আমরাই তাঁকে ডেকে এনে খাল কেটে কুমির এনেছিলাম। এখন কুমির গিলে খাচ্ছে। যিনি টার্মিনাল দখল করতে এসেছিলেন, তিনি সন্ত্রাসী, তিনি ডাকাত।’ আবদুল মান্নান বলেন, ‘মোটর মালিক গ্রুপে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের মাধ্যমেই নেতা নির্বাচন করতে হবে। তারপর দেখব কে কী করে।’

প্রতিবাদ সভায় রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাফকাত মঞ্জুর বিপ্লব, রাজশাহী বিভাগীয় মালিক শ্রমিক নেতা মাহাতাব হোসেন চৌধুরী, রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, নওগাঁ জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি সালাউদ্দিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন