বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সীমা আক্তার ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর শহরের শীতলপাড়া এলাকার দুলার মিয়ার মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের মা ছিলেন। তাঁর লাশ আজ শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলার আবেদন করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমা আক্তারের সঙ্গে সাত বছর আগে ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের আবদুর রউফের ছেলে আল-আমিন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ঘরে আসে মো. আরিয়ান (৫) ও মো. ইসমাইল (৩) নামে দুটি ছেলেসন্তান। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য সীমাকে নির্যাতন করতেন আল-আমিন। তাঁকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য প্রথমে ৫০ হাজার টাকা, মোবাইল কেনার জন্য কয়েকবার টাকা দেওয়া হয়। যৌতুকের টাকার জন্য আল-আমিনের বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি ও বোনেরাও নির্যাতন করতেন।

পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, ঈদ উপলক্ষে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান আল–আমিন। বৃহস্পতিবার তিনি স্ত্রী ও শ্বশুর–শাশুড়ির কাছে বিদেশ যাওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা এক লাখ টাকা দেবেন বলে রাজি হন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আল-আমিন বিকেলে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন, কিন্তু স্ত্রী সীমা আক্তার স্বামীর বাড়িতে যেতে চাচ্ছিলেন না। পরে তাঁকে জোর করে বাড়িতে নিয়ে যান আল–আমিন। বাড়িতে নিয়ে সীমা আক্তারের ওপর নির্যাতন চালান তিনি। একপর্যায়ে তাঁর মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে বাবার বাড়িতে খবর দেন সীমা বিষ পান করেছেন।

সীমার পরিবারের লোকেরা জানান, সীমাকে কসবা হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলেছিলেন তাঁরা। কিন্তু রাত আটটার দিকে সীমাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠান। পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে সীমার মা ও বাবাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন নিহত ব্যক্তির স্বামী আল-আমিন। পরে লাশ অন্য একটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। গভীর রাতে স্বামীর বাড়িতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই সীমার লাশ দাফনের চেষ্টা করেন তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

বিষয়টি সীমার বাবার বাড়ির লোকজন কসবা থানায় জানালে রাত তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যান। আজ সকালে নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বাবা দুলাল মিয়া বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলার আবেদন করেছেন। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে সীমার স্বামী আল–আমিনকে। অন্য আসামিরা হলেন শ্বশুর-শাশুড়ি ও তিন ননদকে।

সীমা আক্তারের বাবা দুলাল মিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘দুই লাখ টাকা কেন দিব না, এ কারণে বাড়িতে গিয়েই আমার মেয়েকে নির্যাতন করে খুন করেছে ওরা। পরে আমাদের জানিয়েছে ওষুধ খেয়েছে। খুনটিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের চেষ্টা করেছে। আমি আমার মেয়ের খুনিদের বিচার দাবি করছি।’

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর ভূইয়া বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় আপাতত একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন হবে। নিহত ব্যক্তির পরিবার থেকে একটি হত্যা মামলার আবেদন পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর থেকে সীমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক থাকায় তাঁদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন