default-image

হাটবাজারের তুলনায় সরকারি দর কম হওয়ায় রংপুরে ন্যায্যমূল্যে আমন মৌসুমে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহের অভিযান পুরোদমে ব্যর্থ হয়েছে। জেলায় ১০ হাজার ৩৮২ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও মিলেছে মাত্র ২ টন। ধান ছাড়াও ১৭ হাজার ৬৩৮ টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহের বিপরীতে মিলেছে মাত্র ১ হাজার ৫৩৫ টন।

গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ছিল আমন ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের মেয়াদ। রংপুর জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, আট উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৭১ টনের বিপরীতে এক কেজি ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। ২ হাজার ৯৬৬ টন চালের মধ্যে কেনা হয়েছে মাত্র ২৬৭ টন।

বিজ্ঞাপন

বদরগঞ্জে ধানের ১ হাজার ৬ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ কেজিও ধান কেনা সম্ভব হয়নি। চাল কেনার কথা ছিল ১ হাজার ৮৪ টন, সেখানে কেনা হয়েছে মাত্র ২০ টন। মিঠাপুকুরে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৯৮ টন ধান, সেখানেও কোনো ধান কেনা হয়নি। আর ৩ হাজার ৮৫৮ টন চালের বিপরীতে কেনা হয়েছে ৪১৯ টন।

এ ছাড়া পীরগঞ্জে ১ হাজার ১৯৪ টন ধান কেনার বিপরীতে কেনা হয়েছে মাত্র ২ টন। চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৮০২ টন। মিলমালিকেরা দিয়েছেন ৬৭৯ টন। তারাগঞ্জে ধান ও চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫০২ ও ২ হাজার ৬৭৪ টন। সেখানে কোনো ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়নি। কোনো পরিমাণের ধান ও চাল কেনা হয়নি গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছায়। তবে কাউনিয়ায় ১ হাজার ২৯৪ টন চালের বিপরীতে ১৫০ টন কেনা হয়েছে।

সরকারিভাবে ধান-চাল কেনা সম্ভব না হওয়া প্রসঙ্গে রংপুর খাদ্য বিভাগের ভাষ্য, হাটবাজারে ধান ও চালের দাম সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি। এ কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়নি।

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, আমন মৌসুমে সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করে দেয় প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা। সেই অনুযায়ী এক মণ ধানে ২৬ কেজি চাল হিসাবে প্রতি কেজি চালের দাম পড়ে ৩৬ টাকা। তবে বাজারে চালের সর্বনিম্ন দাম ৪০ টাকা। ফলে চুক্তি করলেও বাজারে চালের দাম বেশি থাকায় মিলমালিকেরা চাল দেননি।

কৃষকদের ভাষ্য, সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে হলে অনেক ঝক্কি–ঝামেলায় পড়তে হয়। পীরগাছার সাতদরগা গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি গোডাউনোত ধান দিবার গেইলে ধান একেবারে শুকান লাগে। আর হাটোত ধান বেচাইতে কোনো ঝামেলা নাই।’

বিজ্ঞাপন

জেলা খাদ্য কর্মকর্তার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় খাদ্য বিভাগের নিবন্ধিত অটো রাইস মিলসহ হাসকিং মিল আছে ৮৮০টি। এগুলোর মধ্যে ৮১ জন চুক্তি করলেও চাল দিয়েছেন মাত্র ৩০ জন মিলমালিক। তা–ও পরিমাণে খুব কম। শুধু নিবন্ধন টিকিয়ে রাখার জন্য তাঁরা নামমাত্র চাল দিয়েছেন।

জেলার চালকল মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম বলেন, সরকার আমনের মোটা চালের দর দিয়েছে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা। অথচ বাজারে এই চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকায়। লোকসান করে কেউ সরকারি খাদ্যগুদামে চাল দেবেন না, সেটাই স্বাভাবিক।

রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, যেসব মিলমালিক চুক্তি করেও চাল সরবরাহ করেননি তাঁদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন