রক্তদাতাদের মুঠোফোন বন্ধ, মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিতে এগিয়ে এলেন চিকিৎসা কর্মকর্তা

জরুরি বিভাগে নিজের চেয়ারে বসে রক্ত দিচ্ছেন উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা বিমান চন্দ্র আচার্য
ছবি: সংগৃহীত

তিনজন রক্তদাতা রক্ত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর তাঁদের সবার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে রোগীর অবস্থাও সংকটাপন্ন। এমন পরিস্থিতিতে নিজেই রক্ত দিয়ে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচালেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (স্যাকমো) বিমান চন্দ্র আচার্য। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার কয়েকটি ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন স্থানীয় তরুণেরা। মুহূর্তেই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। আর এতে প্রশংসায় ভাসছেন এই উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে কথা হয় বিমান চন্দ্র আচার্যের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী নান্টু সাহার স্ত্রী মিতা সাহা (৪৫) তাঁর প্রতিবেশী। ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সমস্যা ও রক্তশূন্যতায় ভুগছিলেন। তাই তিনি নিজেই স্থানীয়ভাবে তিনজন রক্তদাতাকে ঠিক করে দেন ওই রোগীকে রক্ত দেওয়ার জন্য। সে অনুযায়ী রোববার বিকেলে তাঁকে উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু যে তিনজন রক্তদাতাকে ঠিক করা হয়েছিল, দুর্ভাগ্যবশত তাঁদের সবার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও তাঁদের ফোনে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিকে রোগীর অবস্থাও ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনি নিজেই রক্ত দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর রক্তের নমুনার সঙ্গে ওই নারীর রক্তের নমুনার মিল পাওয়া যায়। এরপর তিনি হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ওই নারীকে রক্ত দেন।

বিমান চন্দ্র আচার্য আরও বলেন, প্রশংসা পাওয়ার জন্য তিনি এ কাজ করেননি। নিছক মানবিকতার বিষয়টি চিন্তা করেই ওই রোগীকে রক্ত দিয়েছেন। এর আগেও বিভিন্নজনকে ১৪ বার রক্ত দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ওই রোগীর মেয়ের জামাই বিলাস সাহা বলেন, তাঁর শাশুড়ি দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন। বেশ কিছু দিন ঢাকায় রেখে তাঁর চিকিৎসা করানোর পর সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এখানে হঠাৎ তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। এ অবস্থায় যখন অনেক চেষ্টা করেও রক্ত জোগাড় করতে পারছিলেন না, তখন বিমান চন্দ্র আচার্য তাঁর শাশুড়ির জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসেন। তাঁর এই ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়।

এদিকে কর্তব্যরত অবস্থায় রোগীকে রক্ত দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম নামের একজন লিখেছেন, ‘আমি এর আগে কখনো এমন মানবিক ডাক্তার দেখিনি। হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ডিউটিরত অবস্থায় একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য ব্লাড ডোনেট করলেন প্রিয় ডাক্তার বিমান চন্দ্র আচার্য দাদা। হাতিয়ার মানুষ আপনাকে গরিবের ডাক্তার বলেন। আপনি আসলেই এ অভিধার যোগ্য দাবিদার।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, বিমান চন্দ্র আচার্য বরাবরই দায়িত্বের প্রতি সজাগ। অত্যন্ত আন্তরিকতা দিয়ে রোগী দেখেন তিনি।