বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ সময় মানববন্ধনের পক্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এরপর বেলা দেড়টার দিকে আবারও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে চাইলে ওই পক্ষ বাধা দেয়। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় কিল-ঘুষির আঘাতে পাঁচজন সাধারণ ছাত্র আহত হন। তাঁদের শার্ট-গেঞ্জিও ছিঁড়ে ফেলেন হামলাকারীরা। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন আবু জাফর, শামীম হোসেন, ইমন রানা, আবিদ হোসেন ও আকাশ মাহমুদ। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় কিল-ঘুষির আঘাতে পাঁচজন সাধারণ ছাত্র আহত হন। তাঁদের শার্ট-গেঞ্জিও ছিঁড়ে ফেলেন হামলাকারীরা।

মানববন্ধনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র আবু জাফর, হাসিবুর রহমান, শামীম হোসেন ও ফারজানা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক গোলাম সরোয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক শিবলী মাহবুব, সংগীত বিভাগের প্রভাষক রওশন আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী জোট বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয়টি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করছে। তাঁদের পক্ষ নিয়ে কয়েকজন মাদকাসক্ত শিক্ষার্থী মানববন্ধনে বাধা দেন এবং তাঁদের ওপর হাত তোলেন। তাঁরা বলেন, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে ওই ছাত্ররা মানববন্ধনকারীদের জামায়াত-বিএনপি বলেও আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। একপর্যায়ে মানববন্ধনকারীদের তুলে নিয়ে যাবেন বলেও হুমকি দেন তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। শিক্ষার্থীদের উত্তেজনার বিষয়টি শুনেছি। মানববন্ধনের বিষয়ে তাঁরা আমাদের কাছে অনুমতি নেননি। উত্তেজনার খবর পুলিশ আমাকে মুঠোফোনে জানালে আমি তাদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে শান্ত করতে বলেছি।’

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা চলে এসেছে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ২০১৫ সালের ৮ মে। ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবছরে পাঠদান শুরু হয়। মোট শিক্ষার্থী ৩৯৬ জন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখনো কোনো স্থায়ী ক্যাম্পাস ও অবকাঠামো নির্মিত হয়নি। অস্থায়ী ও ভাড়া করা ভবনে চলছে কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার পর গত চার বছরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৫ জন কর্মকর্তা ও ১৪৪ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চার কর্মকর্তা ও শিক্ষকের আত্মীয়করণ ও নিয়োগ বাণিজ্যের দুর্নীতির খবর প্রথম আলোতে প্রকাশিত হলে দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন