বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন রাতারগুল গ্রামের মাঝিরা। লিখিত বক্তব্যে তাঁরা বলেন, ইউপি সদস্য ফখর উদ্দিন রাতারগুল ঘাটে পর্যটকবাহী নৌকা থেকে প্রতি সপ্তাহে ৪ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান রাতারগুল গ্রামের মাঝিরা। এরপর থেকে ফখর ও তাঁর লোকজন রাতারগুল জলাবনে যেতে বাগবাড়ি ও রামনগর গ্রামে রাস্তায় পর্যটকবাহী গাড়ি আটকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করেন। বাধা দেওয়ায় উল্টো গ্রামবাসীর ওপর চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

রাতারগুল গ্রামের মাঝিরা অভিযোগে বলেন, মূলত চৌরঙ্গী ঘাটে পর্যটক বাড়াতে ফখর উদ্দিন রাতারগুল ঘাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। রাস্তায় গাড়ি আটকিয়ে চাঁদাবাজিও করে আসছেন।

রাতারগুল গ্রামের মাঝিরা আরও বলেন, জলাবনে যেতে তিনটি ঘাট রয়েছে। এর মধ্যে ফতেহপুর ঘাটে অনেক দূর ঘুরতে হয় বলে পর্যটক কম থাকে। রাতারগুল ঘাটে বর্তমানে ১৩২টি নৌকা চলাচল করে। এর মাধ্যমে ৩০০ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। করোনার কারণে এমনিতেই পর্যটক কম। এ অবস্থায় রামনগর গ্রামের চৌরঙ্গী ঘাট ছেড়ে নতুন করে আরও ২৬টি নৌকা রাতারগুল ঘাটে চালানোর দাবি তোলেন ফখরের লোকজন। অথচ তাঁরা চৌরঙ্গী ঘাটে রাতারগুল গ্রামের কোনো মাঝিকে নৌকা চালাতে দেন না। মূলত চৌরঙ্গী ঘাটে পর্যটক বাড়াতে ফখর উদ্দিন রাতারগুল ঘাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। রাস্তায় গাড়ি আটকিয়ে চাঁদাবাজিও করে আসছেন। এ রকম কয়েকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফখর উদ্দিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলাও হয়েছে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে রাতারগুল গ্রামের বাসিন্দা মাঝি সোনা মিয়া, কাদির মিয়া, বিলাল মিয়া, খালেদ আহমদ এবং দেওয়ানেরগাঁও এলাকার মাঝি কয়ছর মিয়া ও ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

default-image

এর আগে গতকাল রামনগর ও বাগবাড়ি গ্রামবাসীর উদ্যোগে ফখর উদ্দিনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্যে স্থানীয় মাঝি আবদুর রশিদ বলেন, রাতারগুল ঘাটে রামনগর ও বাগবাড়ি গ্রামের ২৬ জন নৌকাচালক পর্যটকবাহী নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁদের ওপর নির্যাতনের খড়্গ চালিয়ে যাচ্ছিল রাতারগুল ও দেওয়ানেরগাঁও গ্রামের একটি চাঁদাবাজ চক্র। এই চক্রের সদস্যরা সরকারিভাবে নির্ধারিত নৌকাপ্রতি ভাড়া ৭৫০ টাকা আদায় করলেও রামনগর-বাগবাড়ির মাঝিদের দিতেন ২০০ টাকা। বাকি টাকা চাঁদাবাজ চক্র হাতিয়ে নেয়। এ কাজে বাধা দেওয়ায় মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে ফখর উদ্দিনের অনুসারীরা বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়েও কোনো পদক্ষেপ নেননি। জলাবন চাঁদাবাজি মুক্ত করতে তাঁরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি চালু করার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট ইউএনও তাহমিলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রাতারগুলে পর্যটকবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি চাঁদাবাজির অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন