বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল বিকেলে পাথরঘাটা শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে উপজেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান প্রধান অতিথি ছিলেন। খেলা শুরুর আগে সাংসদ ও তাঁর লোকজন মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে মাঠে আসছিলেন। এ সময় রাস্তায় খেলোয়াড়দের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসকে সাংসদের লোকজন সাইড দিতে বলেন। কিন্তু ওই মাইক্রোবাস সাংসদের মোটরসাইকেলবহরকে সামনে যাওয়ার জন্য জায়গা না দিতে পারায় সাংসদ শওকত ক্ষুদ্ধ হন।

পরে সাংসদ শওকত অতিথি মঞ্চে উঠে ওই মাইক্রোবাসে থাকা নজরুল ইসলামকে ডেকে মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে নজরুলকে সাংসদের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। এ সময় সেখানে পাথরঘাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন আকঁন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, বিএফডিসি মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর জমাদ্দারসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের ভাষ্য, ‘রাস্তায় সাইড দেওয়ার মতো অবস্থা না থাকায় মাইক্রোবাসের চালক সাইড দিতে পারেননি। এমপি আমাকে মঞ্চে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করে চড়–থাপ্পড় মারেন এবং তাঁর পা ধরে ক্ষমা চাইতে বলেন। আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। কেন ক্ষমা চাইব? একজন সাংসদ কীভাবে এ রকম আচরণ করেন, আমাদের জানা নেই। আমিও তো আওয়ামী লীগ করি। আমাকে মাইক্রোবাসে দেখেই তিনি ক্ষিপ্ত হন। চালককে কিছু না বলে সরাসরি তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। সম্প্রতি আমি প্রয়াত সাংসদ গোলাম সবুর ও তাঁর স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ সুলতানা নাদিরার পক্ষে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছিলাম। সম্ভবত এই দ্বন্দ্বের জেরে মারধর করেছেন।’

মারধরের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জমাদ্দার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেখেছি এমপি চড়–থাপ্পড় মেরেছেন। মনে হয় কোনো বেয়াদবি করেছেন।’

এ প্রসঙ্গে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মারধরের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি মঞ্চে আসার পর সাংসদ তাঁকে জানান, তাঁর মোটরসাইকেলবহরকে সাইড না দেওয়া নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে তিনি মঞ্চে ডেকে মারধর করেছেন। সাংসদের এমন আচরণ ঠিক না। তিনি অহরহ এমন কাজ করে থাকেন। তাঁর এমন আচরণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাংসদ শওকত হাচানুর রহমানের দুটি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন দাবি করেন, খেলার মাঠে অবস্থিত মঞ্চে সাংসদ কাউকে মারধর করেননি। কিন্তু মঞ্চের বাইরে কিছু হয়েছে কি না, সেটি তাঁর জানা নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন