বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরে এ বিষয়ে কথা হয় পৌরসভার সচিব হালিম উল্যাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, সরকারি খালের জায়গা দখল করে বেশ কিছু ব্যক্তি কয়েকটি বিপণিবিতান নির্মাণ করেন। খালের পাড়ের জায়গায় হাঁটার রাস্তা নির্মাণের উদ্দেশ্যে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে খাসজমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মঙ্গলবার সকাল থেকে অভিযান শুরু হয়েছে।

পৌরসভার মেয়রের খাসজমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করার এখতিয়ার আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসনের প্রথম শ্রেণির এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, খাসজমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে কোনো এখতিয়ার নেই পৌরসভার মেয়রের। খাসজমির মালিক জেলায় জেলা প্রশাসন। উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতে হলে এ–সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল চারটার দিকে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এসে শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকার আমিন মার্কেটের ভেতর থেকে দোকানদারদের বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। মেয়রের অভিযোগ, তিনতলাবিশিষ্ট বিপণিবিতানটির পেছনের কমপক্ষে ১৫ ফুট অংশ সরকারি খালপাড়ের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার উপস্থিতিতে পৌরসভার কর্মচারী ও বেশ কিছু শ্রমিক দুটি এক্সকাভেটর দিয়ে আমিন মার্কেট, আকবর মার্কেট ও সেলিম প্লাজার পেছনের অংশ ভাঙা শুরু করেন। এতে আমিন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় থাকা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আশপাশের বিপণিবিতানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান চলে।

এ বিষয়ে আমিন মার্কেটের মালিকের ছেলে আইনজীবী আশিক-ই-রসুল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের বিপণিবিতানটি তাঁদের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত। তাঁদের বিপণিবিতানে একটি ব্যাংকসহ ২০টি দোকান রয়েছে। কিছুদিন আগে মেয়র খালপাড়ে একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য জমির বিষয়ে জানতে পৌরসভায় হাজির হওয়ার জন্য তাঁদের একটি নোটিশ দিয়েছিলেন। নোটিশ পেয়ে তাঁরা হাজিরও হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কিছুই জানাননি। সোমবার হঠাৎ তিনি বিপণিবিতানের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং মঙ্গলবার বিপণিবিতানের পেছনের ১৫ ফুটের বেশি অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।

বিষয়টি জানার জন্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীরকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খাসজমি যেগুলো অবৈধ দখলে আছে, সেগুলোতে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে। তবে পৌরসভার মেয়র কোন জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছেন, তা আমার নলেজে নেই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন