default-image

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি হেফাজতে মো. রায়হান আহমদের (৩৪) মৃত্যুর মামলায় সাময়িক বরখাস্ত কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ দায় স্বীকার করেননি। রোববার দ্বিতীয় দফা তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করলে হারুন জবানবন্দি দিতে সম্মত না হওয়ায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে সাময়িক বরখাস্ত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসও দুই দফা রিমান্ডের পর ঘটনার দায় স্বীকার করেননি। টিটুর পর হারুনের বেলায়ও একই ঘটনা ঘটল।

সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী প্রথম আলোকে জানান, বরখাস্ত কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদের দুই দফা রিমান্ড শেষে রোববার বেলা তিনটার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তবে হারুন আদালতে জবানবন্দি দেননি। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আদালতের বিচারক মো. জিয়াদুর রহমান তাঁকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আদালত পুলিশ সূত্র জানায়, রায়হানকে হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) মামলায় বর্তমানে পাঁচ দিনের রিমান্ড আছেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আশেক এলাহী। তাঁকে গত ২৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামলায় সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হিসেবে কারাগারে আছেন সাইদুর শেখ নামের এক ব্যক্তি। তিনি রায়হানকে ছিনতাইকারী বলে ফাঁড়ি পুলিশে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছিলেন।

সিলেট নগরীর আখালিয়া নিহারিপাড়ার বাসিন্দা রায়হানকে ১০ অক্টোবর রাতে সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তিনি মারা যান। রিকাবিবাজার এলাকার একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে চাকরি করতেন রায়হান।
এ ঘটনায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে নির্যাতন করার সত্যতা পায়। ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁঞাসহ চারজনকে বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর আকরব পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে গা-ঢাকা দেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় মামলাটির তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর ন্যস্ত হলে রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত হয়। এরপর ১৯ অক্টোবর ফাঁড়ির সেন্ট্রি পোস্টে কর্তব্যরত তিনজন কনস্টেবল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে রায়হানকে নির্যাতন করার বর্ণনা ও নির্যাতনকারীদের নাম বলেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, তিন কনস্টেবলের জবানবন্দিতে এএসআই আশেক এলাহী বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হানকে তুলে এনেছিলেন বলে উল্লেখ ছিল। জবানবন্দির সূত্র ধরে বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ২০ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর হারুনকে ২৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। ওই দিন রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী সাইদুর শেখ নামের এক ব্যক্তিকে মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
নগর পুলিশ সূত্র জানায়, আকবরের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশের সদর দপ্তরের তিন সদস্যের একটি কমিটি।

আকবরকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ফাঁড়ির ‘টুইআইসি’ পদে থাকা এসআই হাসান উদ্দিনকে ২১ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আকবরের পলায়নে সমালোচনার মুখে সরানো হয় পুলিশ কমিশনার পদে থাকা গোলাম কিবরিয়াকে। তাঁর জায়গায় পুলিশের স্পেশাল প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) ডিআইজি পদে থাকা মো. নিশারুল আরিফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার রাতে তিনি সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0