বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দুটি ট্রেন চলত

সিলেট-ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেলওয়ের আখাউড়া সেকশনের অধীন। সিলেট থেকে ছাতক পর্যন্ত রেলপথ প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। সিলেট থেকে ছাতক পর্যন্ত প্রতিদিন দুটি ট্রেন চলাচল করত। সিলেট থেকে সকালে যে ট্রেনটি ছাতক যেত, সেটি আবার বিকেলে সিলেটে পৌঁছাত। যাত্রীবাহী ট্রেনে দুটি মালবাহী বগি থাকত। এতে পণ্য পরিবহনও চলত। এই দুটি ট্রেন (মেইল ট্রেন আপ-ডাউন) ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আর কোনো পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ নেই। এর ফলে সিলেট ও ছাতক রেলস্টেশনে এ দুটি ট্রেনের টিকিট কাউন্টারটি গুটিয়ে রাখা হয়েছে। ছাতক রেলস্টেশনে রেলযাত্রীদের পদচারণও নেই।

এদিকে একটানা দেড় বছর বন্ধ থাকায় সিলেট-ছাতক রেলপথ পরিত্যক্ত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন। তাঁদের প্রশ্ন, সব পথে রেল চলছে, শুধু ছাতক কেন বন্ধ? সাধারণ মানুষ এর পেছনে ছাতক পর্যন্ত রেলপথ বন্ধ করে দেওয়ার সূক্ষ্ম কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

ছাতক রেলস্টেশন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে লাভজনক ছিল। এখন চরম অবহেলা লক্ষ করছি। এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।
মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ

এই আশঙ্কার সঙ্গে সুর মেলান সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সরকার দলীয় সাংসদ মুহিবুর রহমানও। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ছাতক ব্রিটিশ আমল থেকে একটি শিল্প শহর। রেলের বড় বড় স্থাপনা সেই সময় থেকে ছাতকে আছে। স্লিপার কারখানা বন্ধ ছিল, সেটি চালু করা হয়েছে। চার বছর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীন রজ্জুপথ (রোপওয়ে) বিক্রি করার চেষ্টা হয়েছিল, সেটি ঠেকানো হয়েছে। তবে তখন থেকেই রজ্জুপথের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন করোনার দোহাই দিয়ে ছাতকের রেলপথ বন্ধ করে দেওয়ার কোনো চেষ্টা চলছে কি না, তা দেখতে হবে। সাংসদ বলেন, ‘ছাতক রেলস্টেশন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে লাভজনক ছিল। এখন চরম অবহেলা লক্ষ করছি। আমি এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘অন্য কোনো কারণ নেই। আমার জানামতে, করোনার কারণেই সিলেট-ছাতকে চলাচল করা রেল বন্ধ রয়েছে। আবার চালু হবে। তবে কবে নাগাদ চালু হবে, সে রকম কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। এ রুটে চলাচল করা ট্রেন সিলেট রেলওয়ে স্টেশনেই আছে। সুতরাং অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই। আশা করছি, অচিরেই চালু হয়ে যাবে।’

রেলপথে এখন গরু চরে

সম্প্রতি সিলেট থেকে গোবিন্দগঞ্জ রেলক্রসিং পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো রেলপথের আশপাশের গ্রামের মানুষ গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করছেন। রেলপথে চরানো হচ্ছে গবাদিপশু। সিলেটের বিশ্বনাথের কামালবাজার থেকে খাজাঞ্চি পর্যন্ত এ অবস্থা দেখা গেছে। পুরো রেলপথ এখন গো চারণক্ষেত্র। এদিকে ছাতকের উপকণ্ঠ গোবিন্দগঞ্জ থেকে কামালবাজার ও লামাকাজির আতাপুর রেলক্রসিং অব্যবহৃত থাকতে থাকতে অনেকটা অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

ট্রেন চলাচল না করার কারণে এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথের আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। রেললাইনে গরুর রশি বেঁধে গো-খাদ্য সংগ্রহে ব্যস্ত খাজাঞ্চির বাসিন্দা কৃষক মনির উদ্দিন বলেন, ‘সব খানও রেল চলের। আমরার ইখানো রেল আর চলের না দেখি ই কাম আমরা করছি। রেল চললে তো খান্দাত (কাছাকাছি) আইতাম না।’

গত শুক্রবার সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের গোবিন্দগঞ্জ রেলক্রসিং এলাকায় কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, একটানা দেড় বছর ধরে ট্রেন বন্ধ থাকায় তাঁরা বিকল্প হিসেবে সড়কপথ ব্যবহার করছেন। ট্রেন চললে আবার ফিরবেন।

ছাতক রেলস্টেশন সূত্র জানায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় আগস্ট মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত একটানা চার মাস বন্ধ ছিল রেল চলাচল। এরপর একটানা দেড় বছর রেল বন্ধ করোনাকালে। ছাতক রেলস্টেশন প্রতিষ্ঠার ৬৬ বছরে এই প্রথম একটানা দেড় বছর বন্ধ বলে জানান ছাতক বাজার রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবু নাসের মোহাম্মদ। শনিবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাতক-সিলেট রুটে মাত্র একটি মেইল ট্রেন চলত। বর্তমানে সেটি বন্ধ থাকায় রেলে চলাচল করা মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। করোনার কারণে বন্ধ থাকার পর অন্য রুটে সব ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই এই রুটেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন