default-image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারে দুই যুগের বেশি সময় ধরে রেস্তোরাঁর ব্যবসা ছিল জালাল সরদারের। জালালের হোটেল নামে চিনত সবাই। করোনার কারণে গত বছর থেকে তাঁর ব্যবসায় ধস নামে। দোকান ছোট করে রেস্তোরাঁ চালু রাখেন। করোনার কারণে অব্যাহত লোকসানে দীর্ঘদিনের ব্যবসা ছাড়তে হয়েছে। এখন জালাল সরদার ফুটপাতে বসে সবজি বেচাকেনা করেন।

জালাল সরদারের (৬২) বাড়ি গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের হাজি গফুর মণ্ডলপাড়ায়। আগে তিনি সপরিবার গোয়ালন্দ বাজারে থাকতেন। রোজগার কমে যাওয়া আবার গ্রামে ফিরে গেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে দেখা যায়, সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজ মাঠে অস্থায়ীভাবে বসা কাঁচাবাজারের এক পাশে বসে আছেন জালাল সরদার। সামনে রয়েছে ছোট-বড় ৪-৫টি ঝুড়ি। দুটিতে লেবু, একটিতে কাঁচা মরিচ ও আরেকটিতে রয়েছে টমেটো। বটতলায় বসে তিনি বেচাকেনা করছেন। তিনি জানান, চলতি মাসের শুরু থেকে তিনি সবজি বিক্রি করছেন।

বিজ্ঞাপন

জালাল সরদার আক্ষেপ করে বলেন, গোয়ালন্দ বাজারে জালালের হোটেলের নাম ছিল সবার মুখে মুখে। অল্প টাকায় পেট ভরে সবাই খেতে পারতেন। স্থানীয় ব্যক্তিদের পাশাপাশি দূরদূরন্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা তাঁর দোকানে আসতেন। সবাই তাঁর হাতের সুস্বাদু খাবারের প্রশংসা করতেন। করোনার কারণে তাঁর বড় দোকান চালানোর সামর্থ্য নেই। ফুটপাতে বসে খুচরায় সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে।

আলাপ করতে করতে দুই যুগ আগের রেস্তোরাঁ ব্যবস্থায় জড়িত হওয়ার গল্প শোনান জালাল সরদার। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান ছিলেন। জমিজমা তেমন ছিল না। প্রথমে একটি খাবারের দোকানে কাজ শুরু করেন। কিছুদিন পর নিজেই দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। গোয়ালন্দের পানবাজার সড়ক–সংলগ্ন খাবারের দোকান ছিল তাঁর। আয়–রোজগার ভালো হওয়ায় গ্রাম ছেড়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতে গোয়ালন্দ বাজারে ভাড়া বাসায় ওঠেন। স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে ভালোই দিন কাটছিল তাঁর। কিন্তু করোনা সবকিছু পাল্টে দিল।

জালাল সরদার বলেন, ‘দুই বছর আগে বড় মেয়েকে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু গত বছর করোনার পর থেকে ব্যবসায় চরম মন্দাভাব শুরু হয়। খরিদ্দার তেমন ছিল না। কর্মচারীদের বেতন এবং দোকান ভাড়া দিতে চরম লোকসানের মুখে পড়তে হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে হোটেল ছেড়ে দিই। শহরের বাসা ছেড়ে দিয়ে পরিবার নিয়ে চলে যাই গ্রামে।’

গত বছর করোনার প্রকোপ কমার পর ছোট দোকান ভাড়া নিয়ে রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরু করেন জালাল সরদার। এ বছর আবার লকডাউন শুরু হওয়ার সেই ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাধ্য হয়ে সংসার চালাতে হোটেলের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন