বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে শিক্ষকনেতারা উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে একান্ত সচিবের কক্ষে আনুমানিক বেলা তিনটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁকে অবমাননাকর ও অপমানসূচক কথাবার্তাও বলেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তল্লাশি করে তাঁর মুঠোফোন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। এ ছাড়া, মন্ত্রণালয়ের এক কর্মচারী রোজিনা ইসলামকে জোরপূর্বক ও নিয়মবহির্ভূত উপায়ে তল্লাশি করেছিলেন, এমন একটি ভিডিও ক্লিপ সমিতির নজরে এসেছে। স্বাভাবিক কারণেই জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, এটি তাঁর ওপর পরিকল্পিতভাবে কালিমা লেপনের চক্রান্ত কি না। কেননা, সম্প্রতি রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও অনিয়মবিষয়ক বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান করোনা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন, তা রাষ্ট্রের কতিপয় ব্যক্তির দুর্নীতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ম্লান হতে দেওয়া যাবে না। সমাজের যেকোনো অসঙ্গতি তুলে ধরাই গণমাধ্যমের কাজ। পেশাগত দায়িত্ব পালনে ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনানুসারে সুরাহা হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু একজন সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ও সচিবালয়ের মতো রাষ্ট্রের শীর্ষ প্রশাসনিক দপ্তরে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতনের ঘটনা অপেশাদার ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ।

দেশের সুষম উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সম্পর্ক বজায় থাকা বাঞ্ছনীয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, কতিপয় ব্যক্তির অদক্ষতা, অপেশাদার ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পেশায় কর্মরত মানুষের মধ্যে নানা সময়ে ক্ষোভ ও হতাশা লক্ষ করা গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও গতিশীলতা নষ্ট করার ষড়যন্ত্র কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত৷ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া ও সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম যাতে ন্যায়বিচার পান, সেটি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন