বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চমেক হাসপাতাল এলাকার কিছু ওষুধের দোকান দালালনির্ভর ব্যবসা করে। মেডিকেলের পূর্ব গেটের ২৫টি দোকান দীর্ঘদিন ধরে এই দালালনির্ভর ব্যবসা করে আসছে বলে অভিযোগ। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দোকানগুলোর পক্ষে দালালেরা কাজ করেন। আবার দালালদের নিয়ন্ত্রণ করে কলেজ ছাত্রলীগ। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা থেকেও চাঁদা পায় ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের পক্ষ দুটির একটি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে এই পক্ষ কলেজ ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এর আগে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্যাম্পাস ছিল বিএনপি–জামায়াতের ছাত্রসংগঠনের নিয়ন্ত্রণে। এখন ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই।

তবে তিন বছর ধরে নাছিরপন্থীদের বাইরে ছাত্রলীগের আরেক পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। পক্ষটি শিক্ষা উপমন্ত্রী ও চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী। এই দুই পক্ষ গত দুই বছরে ক্যাম্পাসে অন্তত চারবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে। দুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে আসছে।

default-image

এ নিয়ে জানতে চাইলে মহিবুল হাসান চৌধুরী পক্ষের অনুসারী তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের দালাল নিয়ন্ত্রণ, ভাসমান দোকানসহ সব জায়গায় তারা (অপর পক্ষ) চাঁদাবাজি করে আসছে। আমরা এসবের প্রতিবাদ করলে রোষানলে পড়তে হয়। দোকানগুলোকে চাঁদার ভাগ দিতে হয় ছাত্রলীগের হাবিব–শিমুল পক্ষকে।’

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, হাসপাতালের পূর্ব গেটে ২৫টি ওষুধের দোকান হাসপাতালটির প্রসূতি, সার্জারিসহ বিভিন্ন বিভাগে দালালের মাধ্যমে ওষুধ বিক্রি করে। এসব দালালের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রলীগের হাতে। দালালেরা হাসপাতালের ওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে ওষুধের স্লিপ টানাটানি করতে থাকেন। ২৫ দোকানের ৫৮ জন দালাল রয়েছেন। কোন দিন কোন কোন দোকানের সিরিয়াল আসবে, তা নির্ধারণের জন্য লটারি করেন তাঁরা। এ জন্য ২৫ দোকানের প্রত্যেককে সপ্তাহান্তে দুই হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এভাবে মাসে দুই লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়।

১ হাজার ৩১৩ শয্যার চমেক হাসপাতালে দিনে প্রায় তিন হাজার রোগী থাকে। এখানে গড়ে ছোট-বড় ১০০ জনের অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকদের মতে, সিজারের ক্ষেত্রে হাসপাতালের সরবরাহ করা ওষুধের বাইরে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হতে পারে। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে তা কিনতে হয় চার থেকে ছয় হাজার টাকায়।

এ ছাড়া হাসপাতাল থেকে রোগী ও লাশ পরিবহনে প্রতিটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকে মাসে ৭০০ টাকা তোলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন প্রায় ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। রোগী ও মরদেহ পরিবহনে নৈরাজ্য কমাতে ২০১৮ সালের মার্চে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি নীতিমালা প্রকাশ করে। তখনকার মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে সব পক্ষের বৈঠকের পর দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নীতিমালা এখন মানেন না অ্যাম্বুলেন্সের মালিকেরা।

এদিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রতিদিন বিকেলে বালিশ, ডাব, বিছানার চাদর, লুঙ্গি, প্লাস্টিকের সামগ্রী, ফলসহ নানা সামগ্রীর ভাসমান দোকান বসানো হয়। এসব দোকান থেকেও চাঁদা তোলা হয়। চাঁদার ভাগ যায় ছাত্রলীগ ও ছাত্র সংসদের নেতাদের কাছে। যদিও এখন ছাত্র সংসদের কার্যক্রম নেই। আর সব চাঁদার একটি অংশ পান উত্তোলনকারী মো. তারেক। এর আগে টাকা তুলতেন নূর মোহাম্মদ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আল আমীন ওরফে শিমুলকে বারবার ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।

জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ ও ছাত্র সংসদের সভাপতি সাহেনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। কিন্তু এখন তো ছাত্র সংসদ বিলুপ্ত। কাজেই সংসদের পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার সুযোগ নেই। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের জন্য দুপক্ষ মারামারি করেছে।’

এ ব্যাপারে পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারের জন্য মারামারিতে লিপ্ত হয় দুই গ্রুপ। এ ছাড়া চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ আছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন