র‍্যাবের হাতে ধরা পড়ে ‘ভুয়া র‍্যাব’ চিৎকারে লোক জড়ো করেন তিনি

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রাশিদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ান (র‌্যাব)। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে র‌্যাবের কুষ্টিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা এই অভিযান পরিচালনা করেন।

র‌্যাব বলছে, রাশিদুল সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত তোরাব আলীর ছেলে। তিনি চরমপন্থী সংগঠন গণমুক্তি ফৌজের প্রধান আমিনুল ইসলাম মুকুলের সহযোগী। মুকুলের হয়ে রাশিদুল এলাকায় আলাদা একটি চরমপন্থী বাহিনী গঠন করেন। এই বাহিনী এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, মারামারিসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।

রাত সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া শহরে র‌্যাবের ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর গাফফারুজ্জামান। তাঁর ভাষ্যমতে, ভবানীপুর গ্রামে প্রায়ই মারামারি হয়। র‌্যাবের গোয়েন্দা সংস্থা এ নিয়ে কাজ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে রাশিদুল চরমপন্থী সংগঠনের আঞ্চলিক নেতা হয়ে একটি বাহিনী তৈরি করেছেন। ওই বাহিনীর সদস্যরা নানা অপকর্ম করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাশিদুলকে ধরতে ভবানীপুর গ্রামের বাজারে যাওয়া হয়। রাশিদুলকে বাজার থেকে আটক করা হয়। এ সময় র‌্যাবকে দেখে রাশিদুল ‘ভুয়া র‌্যাব’ বলে চিৎকার–চেঁচামেচি করতে থাকেন। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে তখন র‍্যাবকে ঘিরে ধরে। পরে আশপাশে থাকা র‌্যাবের অন্য সদস্যরা এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রাশিদুলের কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তাঁকে দ্রুত র‌্যাব ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আবার ভবানীপুর গ্রামে তাঁর বাড়িতে যাওয়া হয়। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে র‍্যাব একটি বন্দুক, বন্দুকের ১৭টি গুলি, ৪টি ধারালো হাঁসুয়া ও বেশ কিছু ঢাল–সড়কি উদ্ধার করে।

ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর গাফফারুজ্জামান বলেন, দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থী সংগঠন গণমুক্তিফৌজের শীর্ষ নেতা আমিনুল ইসলাম মুকুল মালয়েশিয়ায় পালিয়ে আছেন। তাঁর সহযোগী হয়ে রাশিদুল এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে করতে নিজের নামেই ৩০ থেকে ৩৫ জন সদস্যের রাশিদুল বাহিনী গঠন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ ৫টি মামলা আছে।