বিজ্ঞাপন

দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী এ জেলায় করোনা সংক্রমণের হার অনেক বেশি। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষার গড় হিসাবে দেখা যাচ্ছে, দুজনের মধ্যে একজনের (৫৯ শতাংশ) করোনা শনাক্ত হচ্ছে। অথচ গত এক সপ্তাহে শনাক্তের জাতীয় হার ৯ শতাংশের নিচে।

আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া লোকজনকে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে দেখা গেছে। তাঁদের পুনরায় বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শহরের বিশ্বরোড ও সিসিডির মোড়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। শান্তির মোড়ে দেখা যায়, শহরে ঢোকার প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে পথ আটকে দেওয়া হয়েছে। পানিবাহী ভ্যানকেও ফিরিয়ে দিতে দেখা গেছে।

default-image

সকালে সিসিডির মোড়ে ফলের এক দোকানদার বললেন, পুলিশ তাঁদের দোকান বন্ধ রাখতে বলে গেছে। অন্যদিকে শহরের হাসপাতাল সড়কের পাশে আম বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আমের আমদানি খুবই কম। ক্রেতাও খুব একটা নেই। এখানে কথা হয় আম ব্যবসায়ী সুকুমার প্রামাণিক, রাসেল আলী ও বাহারাম আলীর সঙ্গে। তাঁরা জানান, বাজারে আম নেমেছে কম। ক্রেতাও তেমন নেই। গোপালভোগ আম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। এ দর নিয়ে তাঁরা খুব একটা সন্তুষ্ট নন।

এখন আমের মৌসুম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের জন্য বিখ্যাত। আমের ব্যাপারে গতকাল জেলা প্রশাসক বলেছেন, আমের বাজার বসবে; তবে সেটা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। আম পরিবহনের ক্ষেত্রে বাগান থেকে আম ট্রাকে করে পরিবহন করা যাবে, সেই সঙ্গে কুরিয়ারের মাধ্যমে আম পরিবহন করা যাবে। কলকারখানা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। শ্রমিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া করতে হবে।

আম ব্যবসায়ী বাহারাম আলী বললেন, ভ্যানে করে বাজারে আম নিয়ে আসা এক রিকশা ভ্যান ফিরে যাওয়ার সময় পুলিশের এক কনস্টেবল লোহার ছুঁচালো দণ্ড দিয়ে ভ্যানের তিনটি চাকা ফুটো করে দিয়েছেন। তেমনি কাঁচাবাজারে সবজি নিয়ে আসা প্রতিবন্ধী এক ভ্যানচালকের ভ্যানের চাকাও ফুটো করে দিতে দেখেছেন তিনি। প্রতিবাদ করেও কোনো কাজ হয়নি।

এদিকে লকডাউনের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনে চলাচলকারী একমাত্র বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটিও আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চলেনি। আগামী সাত দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্রেনটি বন্ধ থাকলেও রাজশাহী থেকে চলবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী ও নওগাঁয় গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশায় চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে রাস্তায় কিছু খাদ্যপণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করতে দেখা গেছে। এগুলো লকডাউনের আওতার বাইরে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন