করোনার সংক্রমণ কমাতে মানুষ ও যান চলাচলে কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা সোয়া দুইটা পর্যন্ত সিলেট নগরের অন্তত ১২টি এলাকায় দেখা যায়, কোনো কারণ ছাড়াই অযথা কিছু মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকে কোনো প্রয়োজন ছাড়াই কেবল ‘পরিস্থিতি বোঝার জন্য’ বাসার বাইরে বেরিয়েছেন বলেও স্বীকার করেছেন।

default-image

নগরের প্রধান সড়কে লোকজনের চলাচল ছিল কম। তবে পাড়া-মহল্লাতে, বিশেষত চায়ের টং, রেস্তোরাঁ ও সিগারেটের দোকান ঘিরে কিছুটা ভিড় ছিল। কিছু মহল্লার ভেতরে দল বেঁধে তরুণ-যুবকদের ছোট দলে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। যাঁরা মহল্লার সড়কে আড্ডা দিচ্ছিলেন, তাঁদের অনেকের মুখে মাস্কও ছিল না। তবে নগরের বিভিন্ন এলাকায় স্থানে স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। অযথা কেউ বেরিয়েছে কি না, সেটাও বিভিন্ন স্থানে পুলিশকে যাচাই করতে দেখা গেছে।

নগরের কালীবাড়ি এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান ছাড়া পর্দা, কসমেটিকস ও লোহার দরজা-জানালা-গ্রিল তৈরির দোকানও খোলা ছিল। পনিটুলা, বনকলাপাড়া, বাগবাড়ি, দরগাগেট, করেরপাড়া, উপশহর, মদিনা মার্কেট ও বালুচর এলাকার পাড়া-মহল্লায় অনেককে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। বাগবাড়ি বর্ণমালা পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন মাসুম আহমদ ও সুপান্থ দাশ। তাঁরা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কেন বাসার বাইরে, এমন প্রশ্নে তাঁরা বিব্রত হন। দুঃখ প্রকাশ করে জানান, বাইরের পরিস্থিতি দেখতেই তাঁরা বাসার বাইরে এসেছিলেন।

default-image

এ সময় নগরের ১২টি এলাকা ঘুরে ২৬ জনের সঙ্গে কথা হয়। তাঁদের অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন, কোনো জরুরি প্রয়োজন ছাড়াই তাঁরা বাসার বাইরে বের হয়েছিলেন। কঠোর বিধিনিষেধ আসলেই কতটুকু কঠোর, সেটি নিজেদের চোখে দেখতেই এসেছেন। বাইরে জনশূন্য এলাকা দেখে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। বেলা একটার দিকে মদিনা মার্কেট এলাকায় কথা হয় সদর উদ্দিন নামের ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তির সঙ্গে। এ সময় তাঁর মুখে মাস্ক ছিল না। মূল সড়কের পাশে সিগারেট ফুঁকছিলেন। পাশের আখালিয়া এলাকার এই বাসিন্দা বলেন, এলাকার একজনের সঙ্গে মদিনা মার্কেটে এমনিতেই এসেছিলেন। এখন বাসায় ফিরে যাবেন।

বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সিলেটের পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ প্রথম আলোকে বলেন, সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ চলবে ৭ জুলাই পর্যন্ত। এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অযথা কেউ বাইরে বেরোতে পারবেন না। যাঁরা কোনো ধরনের যৌক্তিক ও জরুরি কারণ ছাড়া বাসার বাইরে বেরোবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে পুলিশ, নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা। তাই আহ্বান থাকবে, কেউ যেন অযথা বাসার বাইরে না বের হন। আর যাঁরা জরুরি প্রয়োজনে বেরোবেন, তাঁদের অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন