দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘লিডার্স’–এর সহযোগিতায় কয়রা উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম, কয়রা উপজেলা যুব ফোরাম, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন জলবায়ু সহনশীল ফোরাম এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন যৌথভাবে ওই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজমিতে লবণপানি উত্তোলন করে চিংড়ি চাষ করায় দিন দিন কৃষিজমির লবণাক্ততা বাড়ছে। এর ফলে জমি ফসল আবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কয়রা উপজেলায় লবণপানির চিংড়ি ঘের ৪ হাজার ২০০টির মতো, যার আয়তন ৩ হাজার ৭০০ হেক্টরের কাছাকাছি। বেড়িবাঁধ কেটে ও পাইপ বসিয়ে নদী থেকে চিংড়ি ঘেরে লবণপানি তোলার ব্যবস্থা করেন ঘেরমালিকেরা। এতে বাঁধ আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অল্প জোয়ারেও বেড়িবাঁধ প্লাবিত হয়ে লোকালয়ে লবণপানি প্রবেশ করে। এতে এলাকার জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ জীবন-জীবিকা হারিয়ে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। নদীতে ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। কাজ না থাকায় এলাকা ছেড়ে পাড়ি জমাচ্ছেন অন্য জায়গায়।

কয়রায় বেড়িবাঁধ কেটে ও পাইপ বসিয়ে নদী থেকে চিংড়ি ঘেরে লবণপানি তোলার ব্যবস্থা করেন ঘেরমালিকেরা। এতে বাঁধ আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।

বক্তারা আরও বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে  গুরুত্ব দিয়ে সরকার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দুটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কিন্তু এখনো সেই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়নি। জনস্বার্থে দ্রুত ওই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করার আহ্বান জানান তাঁরা।

মানববন্ধন থেকে সব ঘের ও ক্লোজারের লবণপানি অপসারণের দাবি জানান বক্তারা। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে সব পোল্ডারে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ, উপকূলীয় সব মানুষের খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করার আহ্বান জানান তাঁরা।

উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের নির্বাহী সদস্য নীলিমা চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু সালাম খান, ইউনিয়ন জলবায়ু সহনশীল ফোরামের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম গাজী, সুন্দরবন সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল মাজেদ, দক্ষিণ বেদকাশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিমাই চন্দ্র মণ্ডল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি জাফর মোল্যা, ঘড়িলাল বাজার কমিটির সভাপতি রাধাপদ মণ্ডল, দক্ষিণ বেদকাশী জলবায়ু সহনশীল ফোরামের সভাপতি মুকুল বিশ্বাস প্রমুখ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন