default-image

শরীয়তপুরের সাংস্কৃতিক কর্মী বিজয় চন্দ্র চন্দের বাড়ির একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। ওই বাড়ির লাকড়ি (কাঠের জ্বালানি) রাখার একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও চারটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করার জন্য কেরোসিন ছিটানো হয়। দুর্বৃত্তরা মন্দিরে চারটি চিঠি রেখে গেছে। এসব চিঠিতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়, নইলে দেশ ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার গভীর রাতে শরীয়তপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বালুচরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিজয় চন্দ্র চন্দ সদরের পালং মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পালং মডেল থানা সূত্র জানায়, উত্তর বালুচরা এলাকায় ১০টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। সেটি চন্দের বাড়ি নামে পরিচিত। ওই বাড়িতে দুটি মন্দির আছে। গতকাল গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা একটি মন্দিরে ঢুকে সরস্বতীর প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। জ্বালানি কাঠ রাখার একটি ঘরে আগুন দেয়। আগুন দেওয়ার জন্য আরও চারটি ঘরে কেরোসিন ছিটিয়ে দেয়। আগুন দেখে বাড়ির লোকজন চিৎকার শুরু করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা গিয়ে আগুন নেভায়। মন্দিরে রেখে যাওয়া চিঠিতে চাঁদা না দিলে প্রাণনাশ ও দেশ ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে আজ মঙ্গলবার ওই বাড়িতে যান পৌর মেয়র পারভেজ রহমান জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনদীপ ঘরাই, পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতারা।

পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা কমিটির সভাপতি মুকুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘ঘটনাটিতে আমরা উদ্বিগ্ন। জেলা শহরের মধ্যে সুরক্ষিত একটি এলাকায় এমন ঘটনা আমাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ, দুর্বৃত্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনুন।’

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এসএম আশ্রাফুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন