প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে না‌ফিসা আনজুম বলেন, ১৬ জানুয়ারি শাবিপ্রবি উপাচার্যকে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীরা আইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন। অবরোধের মাত্র ২ ঘণ্টার মাথায় সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে অহংকার ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে উপাচার্যের নির্দেশে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা সংঘটিত হয়। যেখানে নিরীহ-নিরপরাধ ও নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের দমন করতে রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

এর প্রতিবাদে বুধবার বিকেল থেকে এখন পর্যন্ত অনশনকারী শিক্ষার্থীদের অনশনের ৯৬ ঘণ্টা অর্থাৎ ৪ দিন পেরিয়ে গেছে। তাঁরা ধীরে ধীরে সুনিশ্চিত মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছেন। তবুও প্রাণের মায়া ত্যাগ করে তাঁরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। আগের ২৩ জনের সঙ্গে আমরণ কর্মসূচিতে আরও ৪ জন যুক্ত হয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংকালে না‌ফিসা আনজুম আরও বলেন, ‘এ সংকট নিরসনে   শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিদল গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১টায় ভিডিও কলের মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নেয়। সেখানে উপাচার্যের পদত্যাগ সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট কোনো কথা দেওয়া হয়নি। যেহেতু আমাদের অনশনকারী শিক্ষার্থীদের রেখে আমরা ঢাকা যেতে মানসিক ও দৈহিকভাবে অপরাগ, তাই আমরা ভার্চ্যুয়ালি যেকোনো মাধ্যমে সব আলোচনার জন্য সব সময় প্রস্তুত।’

না‌ফিসা আনজুম বলেন,‘শিক্ষামন্ত্রী আমাদের অনশন ভেঙে আলোচনায় বসার আহ্বান জা‌নিয়েছেন। সে সঙ্গে রোববার দুপুরে আরও এক দফা বৈঠকে বসার কথা ছিল। তবে সে‌টি বিকেল সাড়ে পাঁচটা‌ পর্যন্ত হয়‌নি। বৈঠকে আমাদের সুস্পষ্ট কিছু অভিযোগ ও দা‌বি লি‌খিত আকারে উত্থাপনের জন‌্য বলা হয়ে‌ছিল। সে‌টি আমরা প্রস্তুত করে‌ছি। আমরা যেকোনো সময় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়ে‌ছি।’

শা‌বিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত ১৩ জানুয়ারি। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে ছাত্রলীগ হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়।

পরদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও তাঁদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও হল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, খুলনা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন