বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের শেষে কমিটির শীর্ষ দুজনের নাম ঘোষণা করা হয়। সভাপতি পদে প্রত্যাশী ছিলেন ১০ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রত্যাশী ছিলেন ২১ জন। পদপ্রত্যাশীদের নিজেদের মধ্যে আলাপ করে এক সিদ্ধান্তে আসার প্রস্তাব দেন সম্মেলনের প্রধান অতিথি কাজী জাফর উল্যাহ। প্রত্যাশীরা সিদ্ধান্তে আসতে না পারায় কাজী জাফর উল্যাহ শামীম হক ও ইশতিয়াকের নাম ঘোষণা করে বলেন, দলের প্রধান শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলাপ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘সাধারণ সম্পাদক হতে চাই’ মর্মে ইশতিয়াক শহরে কোনো তোরণ কিংবা ব্যানার-ফেস্টুন করেননি। তবে সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে একটি তোরণ নির্মাণ করেছিলেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এবং গুটিকয় ব্যানার-ফেস্টুন বানিয়েছিলেন, যাতে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা বাদে ছিল কাজী জাফর উল্যাহর ছবি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সাংসদ কাজী জাফর উল্যাহ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শামীম হকের নাম যখন ঘোষণা করেন, তখন সভাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ওই সময় শামীম হক মঞ্চে ছিলেন। তিনি সবার সঙ্গে করমর্দনসহ কোলাকুলি করেন। সভাস্থল থেকে মুহুর্মুহু স্লোগান ও বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে মিছিল বের হয়। অন্যদিকে এক মিনিট বিরতিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শাহ মো. ইশতিয়াকের নাম যখন ঘোষণা করা হয়, তখন সভাস্থলে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করে। মঞ্চে উপস্থিত অন্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান।

ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শামীম হক। জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসনামলে দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। তিনি নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। পরে ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হন। জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটিতে সহসভাপতি ছিলেন শামীম হক।

শাহ মো. ইশতিয়াক হোসেনও ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগ করেন। সদ্য বিলুপ্ত জেলা আওয়ামী লীগের তিনি তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা শাহ মো. নূরুন্নবী বৃহত্তর ফরিদপুরসহ জেলা ফরিদপুরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য।

সভাপতি হিসেবে শামীম হককে সহজভাবে মেনে নিলেও ইশতিয়াককে সম্পাদক করায় কোনোভাবে হিসাব মেলাতে পারছেন না আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। অনেকে বিষয়টি ২০০৫ সালের সম্মেলনে কাজী জায়নুল আবেদীনের সভাপতি হওয়ার মতো চমক হিসেবে দেখছেন।

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্যসচিব আইভী মাসুদ বলেন, ‘সম্মেলনে যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তাকে মিছিলে দেখিনি। স্বাক্ষর করে চলে যেত। কোনো কথা বলত না, তাকে কখনো বক্তৃতা দিতেও দেখিনি।’

এ ব্যাপারে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগ করি। মিছিল করিনি সত্য নয়, তবে বক্তৃতা দিইনি। বিগত দিনে যে পরিবেশ ছিল, তখন বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ ছিল না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন