default-image

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি নৌপথে রোববার সকাল থেকে ৫টি ছোট ফেরি চলছে। তবে ঘাট এলাকায় চাপ নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সীমিত আকারে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এ পথের যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে। এর আগে তৃতীয় দফা বন্ধ থাকার পর শুক্রবার বিকেল থেকে ফেরি চালানো শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) ফয়সাল আহম্মেদ রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, গত দুদিন ধরে সকাল ৬টা থেকে কে-টাইপ ও মিডিয়াম সাইজের পাঁচটি ফেরি চলছে। পদ্মা সেতুর ২৫ নম্বর পিলারের পাশ দিয়ে ফেরি চলছে। সেখানে সামান্য ঝুঁকি ও নাব্যতা সংকট আছে। বড় ফেরিগুলো চালানো বন্ধ আছে। এ ঘাটে ১৬টি ফেরি আছে। নৌপথটি বড় ফেরি চালানোর উপযোগী হলে সেগুলোও চালানো হবে। এ ঘাটে যানবাহনের চাপ নেই। ছোট-বড় ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন আছে। দুর্ঘটনা এড়াতে রাতে এই নৌপথে ফেরি বন্ধ থাকবে।
শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, পদ্মা সেতুর ২৫ নম্বর পিলারের পাশ দিয়ে যাওয়া লৌহজং চায়না চ্যানেলটি খনন করা হয়েছে। সেখান দিয়েই ফেরি চলছে। তবে সেখানে এখনো প্রচুর পলি আসছে। বিআইডব্লিউটিএ খনন অব্যাহত রেখেছে। কিছুদিন ঘাট বন্ধ থাকায় এ দিকে যানবাহন কম আসছে। যানবাহনের চাপ নেই। গাড়ি এলেই ফেরিতে উঠতে পারছে।

বিজ্ঞাপন

ঘাট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই মাস ধরে নাব্যতা সংকটের জন্য ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। ৩ সেপ্টেম্বর নাব্যতা সংকটের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আট দিন খনন করে লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের চ্যানেলটি সচল করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে শিমুলিয়া ঘাট থেকে তিনটি ফেরি কাঁঠালবাড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর ১২টার দিকে আবারও নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই দিন বন্ধ রাখার পর ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পালের চরের নতুন চ্যানেল দিয়ে ফেরি সার্ভিস শুরু করা হয়। ওই দিন দীর্ঘ ২৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছোট একটি ফেরি পাঁচ ঘণ্টা পর কাঁঠালবাড়ি ঘাটে পৌঁছায়। সেদিন আর কোনো ফেরি চলেনি। পরের দিন মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে একটি বড় ফেরি শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় আট ঘণ্টায় ফেরিটি শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছায়। দীর্ঘ পথে ঝুঁকির শঙ্কা থাকায় গত বৃহস্পতিবার ফেরি বন্ধ ছিল। তবে গত শুক্রবার থেকে আবারও ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে।
এদিকে এই নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্য। ঘাটের কয়েকজন যাত্রী বলেন, ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত দুই মাসে অন্তত চারবার ঘাটে এসে ফেরত যেতে হয়েছে। শিমুলিয়া ঘাটের এমন খারাপ অবস্থা কখনো ছিল না। যেসব যাত্রী এই পথ হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যান, তাঁরাই জানেন তাদের কত ভোগান্তি।

মন্তব্য পড়ুন 0