বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টায় নগরের ছোট বনগ্রাম এলাকার শেখ রাসেল শিশুপার্কের পাশে আরবান ক্লিনিকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় সুমাইয়া খাতুন নামের ওই শিশুকে টিকা দিতে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর মা মৌসুমী।

সুমাইয়া নগরের নিউ কলোনি এলাকার সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে। গল্পের ছলে স্বাস্থ্যকর্মীরা এ ভুল করেছেন। তাঁরা সুমাইয়াকে চার ডোজ টিকা দিয়েছেন, তার মধ্যে তিনটি ডোজ পুনরায় দেওয়া পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা সাদ্দাম হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাচ্চাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর তার শরীর খারাপ হতে দেখে তিনি সন্দেহ করেন। টিকার কার্ড দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তাকে ভুল করে অতিরিক্ত টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে। তখনই তিনি ওই টিকাকেন্দ্রে ছুটে যান। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা মোটেও পাত্তা দিচ্ছিলেন না। বাধ্য হয়ে তিনি ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন। খবর পেয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক আসেন। তাঁদের সামনে স্বাস্থ্যকর্মীরা স্বীকার করেন যে ভুল করে টিকার ডাবল ডোজ দিয়ে ফেলেছেন।

সুমাইয়ার বাবা সাদ্দাম হোসেন জানান, সুমাইয়াকে গত বছরের ২৩ জুন ইপিআইয়ের টিকার তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছিল। গত ১২ ডিসেম্বর চতুর্থ ডোজ দেওয়ার কথা ছিল। তখন রাজশাহীতে না থাকায় টিকা দেওয়া হয়নি। বুধবার শিশুকে নিয়ে যাওয়া হলে অতিরিক্ত টিকা দেওয়া হয়। এখন সুমাইয়ার গায়ে জ্বর এসেছে বলেও তিনি জানান।

টিকা প্রদান কর্মসূচির সুপারভাইজার আজাহার আলী বলেন, ঘটনার সময় তিনি কেন্দ্রে ছিলেন না। তবে স্বাস্থ্যকর্মী রেজিস্টার ও ট্যাব না দেখে বাচ্চাটিকে ভুল করে টিকা দিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। বিকেলে শিশুটিকে দেখে আসেন রাসিকের চিকিৎসক সরকার বনি। তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।

রাসিকের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌহিদুল হক বলেন, রাসিকের চিকিৎসা কর্মকর্তা সরকার বনি শিশুটিকে দেখে এসে জানিয়েছেন তার সমস্যা হবে না। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত চারজনকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন