বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লিখিত ব্যাখ্যায় রাজিয়া আরও উল্লেখ করেন, ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষের বাল্যবিবাহ সংঘটনের অপরাধের বিষয়ে দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭–এর ৭(৩) ধারায় শিশু আইন, ২০১৩–এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে মর্মে উল্লেখ রয়েছে। অপর দিকে, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭–এর ১৭ ধারায় বলা আছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে। এমতাবস্থায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ড প্রদানের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আমি খুব অনুতপ্ত এবং সরল বিশ্বাসে কৃতকর্মের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী।’

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ জানান, সুলতানা রাজিয়ার কাছ থেকে পাওয়া লিখিত বক্তব্যের অনুলিপি হাইকোর্টের নির্দেশে ২২ আগস্ট প্রেরণ করা হয়েছে।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে নেত্রকোনার আটপাড়ায় ১ আগস্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই শিশুকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে শিশুদের গাজীপুরের কোনাবাড়ি ও টঙ্গীর পৃথক দুই উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। শিশু দুজনেরই বয়স ১৫ বছর। আইনজীবীরা জানান, ওই দণ্ডাদেশ দেশের প্রচলিত শিশু আইন, ২০১৩ এবং উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপন্থী। শিশু–সম্পর্কিত সব অপরাধের বিচার শুধু প্রতিষ্ঠিত শিশু আদালতেই হবে। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই। এ নিয়ে ৪ আগস্ট প্রথম আলোয় ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে দণ্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

পরদিন সকালে এই প্রতিবেদন যুক্ত করে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির দুই শিশুকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দিতে স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ চেয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে ই-মেইলের মাধ্যমে লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি নজরে এলে হাইকোর্ট ওই দুই শিশুকে মুক্তির নির্দেশ দেন। এ ছাড়া আদেশের বিষয়টি নেত্রকোনার জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার (সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র) মোহাম্মদ সাইফুর রহমানকে বলেন আদালত। তবে এর আগেই নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুহেল মাহমুদ শিশুদের আটকাদেশ বাতিল করে তাদের খালাস দেন। একই সঙ্গে সুলতানা রাজিয়ার কাছে এ নিয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এ নিয়ে ৫ আগস্ট ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত সেই দুই শিশু অবশেষে মুক্ত’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এদিকে ৫ আগস্ট আদালতের রিটের শুনানিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার ব্যাখ্যার কপি ২৬ আগস্টের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে অসংগতি দেখিয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে কথা বলতে বলেছেন হাইকোর্ট। এ নিয়ে ওই দিন প্রথম আলোর অনলাইনে ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে অসংগতি, প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব হাইকোর্টের’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন