default-image

বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়ক সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণের নামে শহরের মোহাম্মদ আলী কমপ্লেক্স মার্কেটের দোকানঘর অবৈধভাবে উচ্ছেদ না করার দাবিতে ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় এই মার্কেটের সামনে ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী এই মার্কেটের ব্যবসায়ী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আফসার আলী বলেন, মোহাম্মদ আলী কমপ্লেক্সের তিনতলা ভবনে নিচুতলায় দোকানঘর রয়েছে ৩০টি। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য এই মার্কেটের পশ্চিম অংশের দিকে মোট ছয়টি ঘর অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এই জায়গার পরিমাণ সাড়ে চার শতক। মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে দোকানঘর উচ্ছেদের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মার্কেটমালিক কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অবৈধভাবে স্বার্থ হাসিল করে পুরো মার্কেট ভেঙে ফেলার পাঁয়তারা করছে। এতে এই মার্কেটের ২৪টি দোকানঘরের মালিকেরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষা করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এর প্রতিবাদে আজ তাঁরা স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানের মালিক হারুন মিয়া বলেন, মোহাম্মদ আলী কমপ্লেক্সে তাঁর একটি দোকান রয়েছে। এই দোকানের আয় দিয়ে তাঁর পুরো সংসার চলে। ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চলে। মার্কেটের ভেতরে তাঁর এই দোকানঘর উচ্ছেদের তালিকাভুক্ত না হলেও পুরো মোহাম্মদ আলী কমপ্লেক্স ভেঙে ফেলার জন্য মালিকপক্ষ তৎপর হয়ে উঠেছে। এতে তাঁর পুরো পরিবারকে না খেয়ে মরতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আজ এই মানববন্ধনে অংশ নেন এই মার্কেটের ২৪ জন দোকানমালিক। তাঁদের মধ্যে ১০ জন বলেন, শহরের করতোয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমির ওপর মোহাম্মদ আলী কমপ্লেক্স। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক সম্প্রসারণে এই মার্কেটের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে মাত্র সাড়ে চার শতাংশ। ২০০২ সালে মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়। এরপর মালিকপক্ষ এই মার্কেটের মাত্র পাঁচটি দোকান নিজের জন্য রাখে। অবশিষ্ট ৩০টি দোকান আজীবনের জন্য ৩০ জন ব্যবসায়ীর কাছে পজিশন হিসেবে হস্তান্তর করে। এই মার্কেটের ওপরের তলায় উঠতে দুটি সিঁড়ি রয়েছে। সড়ক সম্প্রসারণের কারণে একটি সিঁড়ি ভাঙা পড়লেও আরেকটি এখনো রয়েছে। মার্কেট কর্তৃপক্ষ মার্কেটের অন্য ২৪ জন ব্যবসায়ীকে পথে বসাতে পুরো মার্কেটটি ভেঙে ফেলার তৎপরতা শুরু করেছে। জীবন থাকতে তাঁরা এই মার্কেট ভাঙতে দেবেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কেটটির মালিক বি এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, মার্কেটটি মহাসড়ক থেকে কিছুটা নিচে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক সময় মার্কেটের মধ্যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ কারণে সড়ক সম্প্রসারণ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি পুরো মার্কেট ভেঙে ফেলতে চাইছেন। পরে অধিগ্রহণ ব্যতীত মার্কেটের বাকি অংশে তিনি বহুতল মার্কেট নির্মাণ করবেন। ওই সময় নির্মাণাধীন মার্কেটে ওই ২৪ জন ব্যবসায়ীকে দোকানঘর ভাড়া দেবেন।

মন্তব্য পড়ুন 0