হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শামীম ও দুলালী বেগম নামের দুই শ্রমিক।

কারখানার কয়েকজন শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে শ্রমিকেরা ঈদের আগেই চলতি মাসের বেতন ও উৎসব ভাতার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাঁদের ২০ দিনের বেতন দিতে রাজি হয়। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা কারখানার ভেতরে ও সামনে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে কারখানায় পুলিশ প্রবেশ করে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উত্তেজিত শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা প্রায় ১২ কিলোমিটার বিস্তৃত হয়।

পুলিশ ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত শ্রমিকেরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে রবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও তাঁদের কথা শোনেননি শ্রমিকেরা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় সাংসদের একান্ত সহকারী মীর আসিফ। তিনি শ্রমিকদের শান্ত হতে অনুরোধ করেন। পরে সাংসদ খান আহমেদ শুভ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বেতন ও উৎসব ভাতা পাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা মহাসড়ক ছেড়ে আসেন। বিকেল ছয়টার দিকে রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে সাংসদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন।

কারখানার শ্রমিক শাহানা আক্তার জানান, তাঁকে ৩ দিন আগে ৩ হাজার টাকা উৎসব ভাতা ও ২০ দিনের বেতন দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কারখানার মহাব্যবস্থাপক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের ঈদের উৎসব ভাতা আরও তিন দিন আগেই দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি করা চলতি মাসের পুরো বেতনও পরিশোধ করা হবে।

কতগুলো রবার বুলেট ছোড়া হয়েছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) এস এম মুসা বলেন, ৪১টি রবার বুলেট ছোড়া হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন