বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৈঠকের আগে জেলা নেতারা বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে যোগ দেন। নবগঠিত জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের কোম্পানীগঞ্জে আগমন উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে ওই কর্মী সমাবেশের আয়োজন করেন কাদের মির্জা। তবে এতে শুধু কাদের মির্জার অনুসারী নেতারাই উপস্থিত ছিলেন।

জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে একই কমিটির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র মো. সহিদ উল্যাহ খান ছাড়াও সদস্য সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী, সাংসদ আয়েশা ফেরদাউস ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বক্তব্য দেন।

বৈঠকে জেলা নেতারা বলেন, কোম্পানীগঞ্জে প্রায় ১০ মাস ধরে চলমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতে একজন সাংবাদিকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেকে কোম্পানীগঞ্জে আসতে পারেন না। এসব বন্ধ করতে হবে। সাংগঠনিক নিয়মে সবাইকে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মীই যেন কোম্পানীগঞ্জের বাইরে না থাকেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা মিলনায়তনের কর্মী সমাবেশের পর বেলা আড়াইটার দিকে পৌরসভা কার্যালয়ে মেয়র কাদের মির্জার সঙ্গে একান্তে বৈঠকে বসেন জেলা নেতারা। ওই বৈঠকে কাদের মির্জা ও তাঁর ছেলে আশিক মির্জা অংশ নেন। বৈঠকে জেলা নেতারা কোম্পানীগঞ্জে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে শান্ত থাকতে কাদের মির্জাকে পরামর্শ দেন।

জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, কাদের মির্জার সঙ্গে বৈঠককালে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ভুলে গিয়ে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তা ছাড়া জাতীয় রাজনীতির বিষয়ে কথা না বলে, স্থানীয়ভাবে সবাইকে নিয়ে দলকে শক্তিশালী করার বিষয়ে কথা হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী জানান, একই বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অপর অংশের সঙ্গেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুই পক্ষকে নিয়ে একসঙ্গে আরেকটি বৈঠকে বসা হবে।

গত ৩১ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণাকালে দলের সাংসদ, জাতীয় নির্বাচন ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে বক্তৃতা দিয়ে আলোচনায় আসেন কাদের মির্জা। কথিত ‘সত্যবচনের’ নামে তিনি একপর্যায়ে বড় ভাই দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ভাবি ইশরাতুন্নেসা কাদেরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে থাকেন। তিনি তাঁর ভাবির বিরুদ্ধে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেন। একের পর এক অভিযোগে দলের স্থানীয় নেতারাও বিব্রত হন। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দেয়।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কাদের মির্জার কথিত সত্যবচনের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ওরফে বাদল। ওই দিন উপজেলার চাপরাশিরহাটে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে সেখানে কাদের মির্জার অনুসারীদের হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান স্থানীয় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন (মুজাক্কির)।

এ ঘটনার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ অনেক নেতা কাদের মির্জার সঙ্গ ত্যাগ করেন। এর জের ধরে গত ৮ মার্চ কাদের মির্জার উপস্থিতিতে তাঁর অনুসারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এর প্রতিবাদে পরদিন ৯ মার্চ বসুরহাটের রূপালী চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশেও হামলা চালান মির্জার অনুসারীরা।

ওই হামলার জের ধরে রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মারা যান শ্রমিক লীগের নেতা আলাউদ্দিন। এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বসুরহাট এবং কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কাদের মির্জা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে থাকা অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের অনেক ঘটনা ঘটে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন