সখীপুরে বিধিনিষেধের মধ্যেও চলছে ফাইলা পাগলার মেলা

বিধিনিষেধের মধ্যেও চলছে ফাইলা পাগলার মেলা। গতকাল শনিবার মাজারের সামনে উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে বিধিনিষেধের মধ্যেও টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় ৭২তম ফালু চান ওরফে ফাইলা পাগলার মেলা চলছে। উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে গত শুক্রবার ১০ দিনব্যাপী এই মেলা শুরু হয়েছে। আজ রোববার মেলার তৃতীয় দিন চলছে। মূল মেলা ১০ দিনের হলেও চলে মাসজুড়ে। প্রতিবছর পৌষের চাঁদে মেলাটি বসে।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, এবার মেলার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সরকার ১৩ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে গণজমায়েত, উন্মুক্ত অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য বলেছে। মেলা চলার অনুমতি না থাকায় এবার ওই মেলার নিরাপত্তায় পুলিশি টহলও নেই।

আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি রাত ৯টায় এই মেলায় জেএমবি বোমা বিস্ফোরণ ঘটালে মাজারের খাদেম আবদুল গণিসহ আটজন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। ওই সময় কয়েক বছর মেলায় লোক সমাগম কম ঘটলেও পরে মেলায় আগের পরিবেশ ফিরে আসে। ৭২ বছর ধরে এই মেলা চলছে।

গতকাল শনিবার মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন এলাকার হাজারো ভক্ত-আশেকান গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ নানা মানত নিয়ে এসেছেন। অন্তত দুই হাজার দোকানপাট নানা পসরা সাজিয়ে বসেছে। মেলায় আসা নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, জাদু প্রদর্শনী, লটারি, মোটরসাইকেল খেলা ইত্যাদি আছে।

গাজীপুর থেকে মেলায় আসা মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমার দুটি মেয়ে হওয়ার পর ছেলের আশায় ফাইলা পাগলার মাজারে মানত করছিলাম। আল্লায় আমারে এ মাজারের অছিলায় একটা ছেলে দিছে। ছেলেরে লইয়া মেলাত আইছি।’

মেলা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল শামীম প্রথম আলোকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে মেলা চলার বিষয়ে সরকারের বিধিনিষেধ থাকলেও মেলায় ভক্ত, আশেকান ও মানতকারী ব্যক্তিদের কোনোক্রমেই ফেরানো যাচ্ছে না। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ হাজার লোকের সমাগম ঘটে মেলায়। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ এসে মেলা বন্ধে মাইকিং করলেও লোকজনকে থামানো যাচ্ছে না। এবার মাজারে কোনো পুলিশ না দেওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে সাইদুল হক ভূঁইয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দায়িত্বরত অবস্থায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মেলা চলার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে পুলিশও পাঠানো হয়নি।