ফাতেমা বেগম বলেন, অনেক আশা করে এসেছিলেন। বয়স্ক মানুষ হওয়ায় ভেবেছিলেন একটু আগে পাবেন। কিন্তু এসে দেখেন বড় লাইন, ঠেলাঠেলি। তাই এক কোণে বসেছিলেন। এর মধ্যে গাড়ির লোকজন বলছে সব শেষ। তিনি বলেন, ‘সারা দিন এখানে গত করলাম। এখন না পাব কাজের মজুরি, না পেলাম তেল।’

ফাতেমা ও মনোয়ারার মতো এমন দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ বৃহস্পতিবার বিকেলে তারাগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে টিসিবির পণ্য নিতে এসে খালি হাতে ফিরে গেছেন। যেদিনই টিসিবির পণ্য দেওয়া হয়, সেদিনই অপেক্ষা শেষে অনেকে পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান।

টিসিবির ডিলাররা জানান, ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় কম মূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে এখন সব শ্রেণির মানুষ ভিড় করছেন। এক লিটার তেল ১১০, চিনি ৫৫, মসুর ডাল ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে যার মূল্য প্রতি লিটার তেল ১৭০, চিনি ৮০ ও মসুর ডাল ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিজনকে সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল, দুই কেজি চিনি ও দুই কেজি মসুর ডাল দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় টিসিবির ডিলার যখন ঘোষণা দিলেন তেল শেষ, তখনো লাইনে দুই শতাধিক মানুষ। ঘোষণা শোনার পর মুহূর্তেই লাইন উধাও হয়ে যায়। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে টিসিবির ট্রাকে। অনেকে শুধু চিনি আর ডাল কিনেছেন। এ সময় ছবি তুলতে গেলে বাধা দেন কয়েকজন। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, সারা দিন থেকেও তেল, চিনি, ডাল পাননি। পত্রিকায় ছবি দিয়া বাকি সম্মানটুকু খোয়াতে চান না।

১০ টাকা ভ্যানভাড়া দিয়ে রহিমাপুর থেকে এসেছিলেন লাভলী বেগম। চেহারায় হতাশার ছাপ। লাভলী বেগম বলেন, ‘আইজসহ তিন দিন ঘুরি গেনি। কপালে খারাপ। যেদিনই আইসোং সেই দিনই ট্রাকের কাছোত লাইন যাতেই কয় তেল শ্যাষ, মাল শ্যাষ। দুই ঘণ্টা থাকি কিছুই পানু না। সংসারের কামও হইল না। কপালোত আইজ গাইল মন্দ আছে।’

বালাপাড়া গ্রামের আলামিন ইসলাম বলেন, ‘ভাই, দ্যাখতে দ্যাখতে তেল শ্যাষ। কত কোনা তেল ধরি আসছি, তাক আল্লায় জানে। ডিলাররা যায় পরিচিত, তাকে আগোত দেয়। হামরা লাইনোত দাঁড়েও মাল পাই না। সরকারের উচিত টিসিবির মাল বেশি করি দেওয়া। নাইলে চালের কার্ডের মতোন কার্ড করি দেওয়া। তাইলে সবাই পাইবে।’

টিসিবির ডিলার মোজাফফর হোসেন বলেন, ধনী–গরিব সবাই এখন টিসিবির পণ্য নিতে আসছে। তেল ৬০০ কেজি, ডাল ৫০০ কেজি, চিনি ৫০০ কেজি বরাদ্দ পেয়েছিলেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। লোকজন তেল, চিনি, ডাল না পেয়ে গালিগালাজ করে। অনেকে না বুঝে মারতেও আসে। যা বরাদ্দ পান তা–ই এনে জনগণের কাছে বিক্রি করেন। প্রতিদিনই এমন হয়। দেড়-দুই শ করে লোক মালামাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান।