default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বিশ্বরোড মোড় খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রতিবাদে গত রোববার হেফাজতে ইসলামের হরতালের সময় ওই মামলার ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে থানার দুই কর্মকর্তা বাদী হয়ে আজ বুধবার সরাইল থানায় একটি ও সদর মডেল থানায় আরেকটি মামলা করেন।

সরাইল থানা ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি মামলা করেছেন। এ ছাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় আরেকটি মামলা করেন। প্রতিটি মামলায় ৮ জন করে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দুই মামলায় আট হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার হরতালের সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হরতাল সমর্থক কয়েক হাজার শিশু, কিশোর ও তরুণ হাইওয়ে থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। আগুনে থানার ভেতরে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, প্রয়োজনীয় আসবাব, একাধিক কম্পিউটার, পাঁচটি অস্ত্র ও গুলি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া থানার আশপাশে ও ডাম্পিং এলাকায় থাকা রেকার, দুটি পিকআপ ভ্যান, মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি, ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। লুট করা হয়েছে জব্দ করা পাঁচ থেকে ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন মামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ভিডিও চিত্র ও স্থিরচিত্র থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। জড়িত সবাইকে দুই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) আনিছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হাইওয়ে থানার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া সরাইল উপজেলার অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। কোনো অপরাধী যেন ছাড় না পায় এবং কোনো নিরপরাধী যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন