বিজ্ঞাপন

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আবু বাক্কার, নুর কুতুবল আলম, আবদুল মতিন, আশরাফুল, সমিত রায়, সেলিম রেজা, মিজানুর রহমান, শাহিনুর ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, রেজাউল করিম, কলেজশিক্ষক আশরাফুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, আসাদুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইব্রাহিম হোসেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল করিম, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী

default-image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সামনে আজ রোববার বেলা ১১টায় রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সভাপতি আজু শিকদারের সভাপতিত্বে এই প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন স্থানীয় সাংবাদিক আবুল হোসেন, শামীম শেখ, হেলাল মাহমুদ, আক্তারুজ্জামান মৃধা, উদয় দাস, কুদ্দুস উল আলম, এম রাশেদুল হক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, রোজিনা ইসলাম সৎ, নির্ভীক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক। তাঁকে শুধু জামিন দিলেই হবে না; সচিবালয়ের মতো জায়গায় তাঁকে হেনস্তা ও নির্যাতন করে মিথ্যা মামলা দিয়ে যাঁরা কারাগারে পাঠিয়েছেন, তাঁদের বিচার করতে হবে।

সুনামগঞ্জ

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, হেনস্তা ও নির্যাতনকারীদের শাস্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে সুনামগঞ্জে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে আজ রোববার দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক, সুধী সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ।

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ কান্তি দের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মহিমের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তৃতা দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা কমিটির সভাপতি হোসেন তওফিক চৌধুরী, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, সুনামগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী স্বপন কুমার দাস রায়, কবি ও লেখক ইকবাল কাগজী, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি শুভঙ্কর তালুকদার মান্না, আইনজীবী এনাম আহমেদ, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি বিন্দু তালুকদার, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আসাদ মনি প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে ৯৮ বছরের পুরোনো আইনে মামলা হয়েছে, এটি হাস্যকর। এ ধারায় মামলা হয় না, এ আইন অচল। হয়রানিমূলক এই মামলা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। সেই সঙ্গে রোজিনাকে সচিবালয়ে আটকে রেখে হেনস্তা ও নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

গাইবান্ধা

রোজিনার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও হেনস্তাকারীদের বিচারের দাবিতে গাইবান্ধা শহরের গানাসাস মার্কেটের সামনে মানববন্ধন করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে গাইবান্ধা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ এ মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে সাংবাদিক, সমাজ ও সংস্কৃতিকর্মী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এতে বক্তৃতা দেন প্রবীণ সাংবাদিক গোবিন্দলাল দাস, আবু জাফর, স্থানীয় সাপ্তাহিক গণ প্রহরীর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস কে মজিদ মুকুল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য আমিনুল ইসলাম, জেলা সিপিবির সভাপতি মিহির ঘোষ, জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, মোস্তফা সবুজ, আইনজীবী কাজী ফকু প্রমুখ। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক শামীম আল সাম্য।

default-image

বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যায় ঢাকতে গিয়ে সাংবাদিক রোজিনাকে পরিকল্পিতভাবে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। আজ সকালে রোজিনাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁর বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করে নিতে হবে। সেই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

১৭ মে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে প্রায় ছয় ঘণ্টা সচিবালয়ে আটকে রেখে হেনস্তা ও নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোজিনাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

অনশন ভাঙলেন নওগাঁর সেই মানবাধিকারকর্মী

রোজিনা ইসলামের জামিন পাওয়ার খবরে অনশন ভেঙেছেন নওগাঁর মানবাধিকারকর্মী আবদুল মালেক দেওয়ান। দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ডাবের পানি ও জুস পান করিয়ে অনশনকারী মালেকের অনশন ভাঙান। ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশন নওগাঁ জেলার সভাপতি আবদুল মালেক দেওয়ান গত শনিবার সকাল থেকে শহরের মুক্তির মোড় শহীদ মিনার বেদিতে অনশনে বসেন। সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
আবদুল মালেক বলেন, ‘রোজিনা ইসলামকে জামিন দেওয়ায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে বর্তমানে আমার দাবি হচ্ছে, তাঁর বিরুদ্ধে করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাটি যেন নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করা হয়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন