বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাংসদ নাজিম ও মেয়র রফিকুলের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায় দুই ঘটনায়। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমানকে গত ১৭ অক্টোবর কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মাসুদুর ৩০ জানুয়ারির পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। পরে মেয়র রফিকুলকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়। ওই নির্বাচনে রফিকুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। নির্বাচনে সাংসদ নাজিমের অনুসারীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনের দিন মেয়র মুঠোফোনে সাংসদকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে সাংসদ থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন। পরবর্তী সময়ে গত ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় সাংসদের গাড়িতে মেয়রের লোকজন হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সংবাদ সম্মেলন করে সাংসদ নাজিম এ অভিযোগ তোলেন। একই দিন সংবাদ সম্মেলন করেন মেয়রও। এতে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন সাংসদের ছেলে তানজিরের সমর্থকেরা। এভাবে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে গৌরীপুরের রাজনীতিতে দেখা দেয় অস্থিরতা।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার একসঙ্গে মিলিত হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় লোকজন। তাঁরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান স্থগিত হলেও দুই নেতা একসঙ্গে বসে চা-চক্র করে সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে সাংসদের সঙ্গে কিছুটা রাজনৈতিক বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। এ নিয়ে আমরা খোলাখুলি কথা বলেছি। কথা বলার পর সেই বিরোধ মিটেছে। গৌরীপুরের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বিরোধ মেটাতে আমরা তৎপর ছিলাম।’

সাংসদ নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে অনেক সময় মতবিরোধ হতে পারে। তবে উন্নয়নের স্বার্থে সেই বিরোধ ধরে রাখা ঠিক নয়। পৌরসভার অনুষ্ঠানে আমাকে প্রধান অতিথি করা হলে আমি তাতে সম্মত হই। অনুষ্ঠান স্থগিত হলেও মেয়রের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন