বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে আজ ভোরে দেখা গেছে, সুন্দরবনসংলগ্ন নদ–নদী ভাটার সময়ও উত্তাল। দমকা বাতাসের গতিবেগ বেড়েছে। তবে বৃষ্টি হচ্ছে থেমে থেমে। কখনো মুষলধারে, আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি। শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর এলাকায় নদীর ধারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনেকেই জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন। বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে নৌযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণে জন্য।

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আটটি টহলফাঁড়ির সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনে অবস্থানরত মৌয়াল ও জেলেদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

শ্যামনগরে গতকাল রাত ১১টার দিকে জোয়ারের পানি তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। গাবুরা ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের নেবুবুনিয়া, নাপিতখালী, গাগড়ামারি ও জেলেখালী এলাকা দিয়ে নদীর পানি উপচে চিংড়িঘেরে ঢোকে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহড়তলী এলাকা দিয়ে চুনকুড়ী নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢোকে। একইভাবে প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাউনিয়া এলাকা দিয়ে কপোতাক্ষ নদের পানি লোকালয়ে ঢোকে। আজ ভোর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় জিও ব্যাগ দিয়ে ওই সব এলাকায় বাঁধ মজবুত ও উচ্চতা বাড়ানোর কাজ করছেন স্থানীয় লোকজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্যামনগরের শাখা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, সিংহড়তলী এলাকায় গতকাল রাতে ২১০ জন গ্রামবাসী একত্রে কাজ করে লোকালয়ে পানি ঢোকা বন্ধ করেছেন। আজ সকাল থেকে তাঁদের আবার দুর্বল বাঁধে মাটি দেওয়ার কথা রয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক জানান, ঝোড়ো হাওয়া কিংবা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে আজ সকাল পর্যন্ত সেখানে বড় ধরনের সমস্যা হয়নি। তবে গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, কৈখালী, রমজাননগর, কাশিমাড়ি ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ৪৩টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব স্থানে মাটি দিয়ে বাঁধ মজবুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন