বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের ২০–২৫ হাজার পরিবারের ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বাঁধ ও নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের ২০–২৫ হাজার পরিবারের ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বাঁধ ও নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে। আবার কিছু পরিবার ঘরের মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে।

গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুর রহমান গাজী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেঁড়িবাধ ভেঙে যাওয়ায় অসংখ্য মানুষ পানিবন্দী ও গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে চিংড়ি ঘের। মানুষ এখন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

default-image

নেবুবুনিয়া গ্রামের রহিম গাজী জানান, বেঁড়িবাধ ভেঙে পুরো এলাকা পানিতে একাকার হয়ে গেছে। অন্য কোনো স্থানে যাওয়ার জায়গা না থাকায় ঘরের মধ্যে পানিবন্দী অবস্থায় দিনরাত কাটছে।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পশ্চিম দুর্গাবাটি গ্রামের কালিদাস মণ্ডল জানান, ইয়াসের মাত্র মাসখানেক আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ভেঙে মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। আবার ইয়াসের জোয়ারের পানিতে সব ভেসে গেছে। তাঁরসহ অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের মিজানুর রহমান গাইন বলেন, মথুরেশপুরের হাড়দাহ, বসন্তপুর, হোসেনপুর, চাকদা এলাকার চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে।

হাড়দাহ গ্রামের ইমরান আলী জানান, তিনিসহ এলাকার কয়েক শ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তাঁর চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। চিংড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে বুধবার রাতে ৮০টি পরিবার আশ্রয় নেয়। গতকাল সকালে ছিল ১৭টি পরিবার।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, জোয়ারের পানির চাপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ১২-১৩টি স্থান ভেঙে গিয়েছিল। চারটি স্থান দিয়ে পানি আটকানো সম্ভব হলেও কুড়িকাউনিয়া, হরিশখালি, বন্যাতলা ও দীঘলার আইটের নয়টি স্থান দিয়ে পানি আটকানো সম্ভব হয়নি। এসব বাঁধ সংস্কার করা কঠিন হয়ে পড়বে।

আম্পানের পর অনেকে এখনো বাড়িতে ফিরতে পারেনি। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নতুন করে এলাকা প্লাবিত হওয়ায় মানুষ চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। কেউ নৌকায়, আবার কেউ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

default-image

আশাশুনির প্রতাপনগর গ্রামের আলমগীর হোসেন ও মরিয়ম বেগম জানান, আর কোনো উপায় না থাকায় তাঁরা নৌকায় অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের বাড়ি পানিতে তলিয়ে আছে। চিংড়ি ঘেরও ভেসে গেছে।

একই এলাকায় ফারুমা ও আবদুল মান্নান গাজী জানান, তাঁদের আম্পানে সবকিছু শেষ হয়ে যায়। প্রায় ১০ মাস পরে বাড়িতে ফিরেছিলেন। ঘর ঠিক করতে না করতেই আবার ইয়াস আঘাত হেনেছে। যদি এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ না দেওয়া যায়, তাহলে এলাকাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ ও দেবহাটা—চারটি উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নের ৩৫ হাজার পরিবারের প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব ইউনিয়নে ৬০০ হাজার ৭৭ হেক্টর জমির চিংড়ি ঘের তলিয়ে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০ কিলোমিটার বাঁধের ২১টি স্থান ভেঙে ও ৩২টি স্থান দিয়ে উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। লোনাপানিতে মিঠাপানির পুকুর তলিয়ে একাকার হয়ে গেছে। এতে সুপেয় পানির অভাব আরও প্রকট হয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১–এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, গত বুধবার সকাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজ চলছিল। তবে পরবর্তী জোয়ারে কয়েকটি স্থান আবারও তা ধসে পড়ে। বেড়িবাঁধ সংস্কারে ৬০ হাজার সিনথ্যাটিক ও ১০ হাজার জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে আরও কিছু সময় লাগবে। দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

ত্রাণ তৎপরতার বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আশাশুনি ও শ্যামনগরে ৫০ মেট্রিক টন করে এবং তালা ও কালীগঞ্জে পাঁচ মেট্রিক টন করে খাদ্যশস্য তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন