বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আইনজীবীরা বলেন, সকাল সোয়া ১০টায় সাক্ষ্য (জবানবন্দি) দেন সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল মোহাম্মদ ইমরান হাসান। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ টেলিফোন করে জানান যে একজন ভুয়া মেজর নিহত হয়েছেন। এ সংবাদ শোনার পর দুজন সহকারী নিয়ে তিনি (ইমরান) ঘটনাস্থলে (টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকি) পৌঁছে জানতে পারেন, একটি মিনিট্রাকে করে মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি হাসপাতালে পৌঁছান এবং মেজর (অব.) সিনহার লাশ দেখতে পান। রাত দেড়টার দিকে সুরতহাল করা হয়, সেখানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। মর্গে তিনি সিনহার লাশ শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, তাঁকে (সিনহা) তিনি চেনেন। তিনি তাঁর কোর্সমেট ছিলেন।

এরপর ইমরান হাসানকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
পরে অপর তিন সাক্ষী এএসআই নজরুল ইসলাম, এসআই সোহেল সিকদার ও পুলিশ কনস্টেবল শুভ পাল জবানবন্দি দেন।

সাক্ষ্য গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি ফরিদুল আলমসহ তিনজন। আদালত পরিচালনা করেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল।

সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৫ জন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পঞ্চম দফায় এ পর্যন্ত ৩৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি (সাক্ষ্য) নেওয়া হয়েছে। এ মামলার মোট সাক্ষী ৮৩ জন। আদালতের বিচারক ষষ্ঠ দফায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৫ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন ধার্য করেছেন। তখন আরও অন্তত ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হতে পারে।

আইনজীবীরা বলেন, প্রথম দফায় গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে এ মামলার সাক্ষ্য দেন দুজন। তাঁরা হলেন মামলার বাদী ও সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস এবং ২ নম্বর সাক্ষী (ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে গাড়িতে থাকা) সাহেদুল ইসলাম সিফাত। দ্বিতীয় দফার চার দিনে সাক্ষ্য নেওয়া হয় চারজনের। তৃতীয় দফার তিন দিনে ৮ জন, চতুর্থ দফার দুই দিনে ৬ জন এবং পঞ্চম দফার তিন দিনে ১৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করে। ঘটনার পাঁচ দিন পর অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন