সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার গুনেরগাতী, সইলাবাড়ী, দুখিয়াবাড়ী, রান্ধুনবাড়ী, পঞ্চশোনা, বড়শিমুল বেলোটিয়ার চর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার বাড়িঘরে পানি উঠেছে। অনেক বাড়ির নলকূপ ডুবে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

যমুনা নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে ফুলজোড়, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসাগর, ইছামতীসহ জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় পানিবন্দী মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার চৌহালী, শাহজাদপুরে নদীভাঙন অব্যাহত আছে। ওই এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করা হচ্ছে।

default-image

পাউবোর সিরাজগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বন্যায় ইতিমধ্যে শাহজাদপুরের ব্রাহ্মণগ্রাম, কৈজুরী, পাঁচিলসহ চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নও নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় ৪০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙন রোধে ৩০ হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিন যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবলু কুমার প্রথম আলোকে বলেন, যমুনায় পানি বাড়ায় ইতিমধ্যে জেলা সদর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও বেলকুচি উপজেলার ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির পাট, তিল, আখ, আউশ, ধঞ্চে ও সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বন্যাকবলিত উপজেলার ইউএনওদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য ইতিমধ্যে ৯১১ মেট্রিক টন চাল, ২০ লাখ টাকা ও চার হাজার প্যাকেট শুকনা খাবারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পর বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন