সিলেটের সব থানায় বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। ছবিটি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কোতোয়ালি থানা থেকে তোলা
সিলেটের সব থানায় বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। ছবিটি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কোতোয়ালি থানা থেকে তোলাআনিস মাহমুদ

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও জেলার সব থানার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের ১২টি থানা ও এসএমপির ছয়টি থানায় বিশেষ নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা হয়েছে নিরাপত্তাচৌকি (মেশিনগান বা এলএমজি পোস্ট)। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগর পুলিশের ছয়টি থানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফাঁড়ি এবং তদন্তকেন্দ্র ও পুলিশের স্থাপনাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গুরুত্ব অনুসারে থানা, ফাঁড়ি ও তদন্তকেন্দ্রে এলএমজি পোস্ট ও সিমেন্টের বস্তা দিয়ে বিশেষ ধরনের প্রতিরোধব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা। এসব চৌকিতে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানার গোলঘরে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে চৌকি। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের এক সদস্য এলএমজি তাক করে বসে আছেন। এই থানায় পুলিশের অতিরিক্ত ৫০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকি বিবেচনা করে কিছু থানার ছাদে ও সামনের ফাঁকা স্থানে এ ধরনের চৌকি দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

এসএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার বি এম আশরাফ উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় দেশব্যাপী বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মহানগর পুলিশের আওতাধীন সব থানা, ফাঁড়ি, তদন্তকেন্দ্র ও স্থাপনাগুলোতে এলএমজি পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১২টি থানায়ও এলএমজি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখায় যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, গতকাল বুধবার সিলেট জেলা পুলিশ লাইনসে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিয়ে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে জেলার সব থানায় বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এলএমজি চৌকি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া থানাগুলোতে পুলিশ লাইনসের অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র সরবরাহ ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নগর পুলিশ সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের হরতালসহ নানা ইস্যুতে পুলিশি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটছে। ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর রাতে সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতক থানায় হামলার ঘটনা ঘটে। গোয়েন্দা তথ্যে এ রকম সহিংসতা সিলেটে আরও ঘটার শঙ্কা থেকে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) লৎফুর রহমান বিশেষ এই নিরাপত্তাব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ বলে মন্তব্য করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জেলা পুলিশের অধীন সব থানায় একটি করে নিরাপত্তাচৌকি প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেখানে পালাক্রমে সার্বক্ষণিক একজন করে পুলিশ কর্তব্যরত থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন