গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে আবুল মাল আবদুল মুহিত রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।

আজ বেলা ১১টা ৫ মিনিটে সাবেক অর্থমন্ত্রীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদে। নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ এই জানাজায় অংশ নেন। পরে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে তাঁর মরদেহ ছিল দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় ৪৫ মিনিট। এরপর মুহিতের দ্বিতীয় জানাজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে দাফনের জন্য তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয় আবদুল মুহিতের জন্মস্থান সিলেটে।

default-image

এদিকে সাবেক অর্থমন্ত্রীর মৃত্যুতে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ দুই দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে শনি ও রোববার আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আগামীকাল দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আবদুল মুহিতের মরদেহ রাখা হবে। এরপর বেলা দুইটায় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে নগরের রায়নগর এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে বরেণ্য এই রাজনীতিবিদের দাফন সম্পন্ন হবে।

জাকির হোসেন জানান, ঈদের পরদিন বাদ জোহর মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় হজরত শাহজালাল (রহ.) মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। পাশাপাশি সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেট শহরের ধোপাদীঘিরপাড়ে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন সিলেট জেলা মুসলিম লীগের কর্ণধার আবু আহমদ আবদুল হাফিজ ও সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরীর ১৪ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান মুহিত। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেন আবদুল মুহিত। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। পরের বছর একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। ছাত্রজীবনে তিনি সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালে যোগ দেন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি)। সিএসপিতে যোগ দিয়ে তিনি ওয়াশিংটন দূতাবাসে পাকিস্তানের কূটনীতিকের দায়িত্ব নেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের জুন মাসে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন