default-image

সিলেটের শাহপরান থানার বহর আবাসিক এলাকায় দুই সন্তানসহ মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সৎছেলেকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় নিহত রুবিয়া বেগম চৌধুরীর ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর ওই কিশোরকে রক্তমাখা ছুরিসহ ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। আটকের পর হত্যার কথা সে স্বীকার করে। মামলায় তাকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসায় শয়নকক্ষে রুবিয়া বেগম চৌধুরী (৩০), তাঁর মেয়ে জান্নাতুল হোসেন মাহি (৯) ও ছেলে তাহসান হোসেন খানকে (৭) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময় কক্ষে রক্তমাখা ছুরিসহ রুবিয়ার সৎছেলেকে (১৭) আটক করে পুলিশ।

ওই কিশোরের বাবা আবদাল হোসেন খান (৫২) পেশায় মুদিদোকানদার। নিহত রুবিয়া তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর প্রথম স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রী রুবিয়াকে নিয়ে আবদাল শাহপরান থানা এলাকার মীর মহল্লার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

বিজ্ঞাপন

১৭ বছর বয়সী কিশোরের হাতে তিনটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে মানসিক কোনো অসুস্থতা আছে কি না, তারও সন্ধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানায়, ক্রোধের বশে ছেলেটি তার সৎমা ও ভাই-বোনকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সে একাই হত্যা করেছে এবং কারণ হিসেবে জানিয়েছে, রাতে ভাত খেতে এসে দেখে সবাই ঘুমিয়ে আছে। ডাকাডাকি করার পরও মা না জাগায় ক্ষোভে সে ছুরিকাঘাত করে।

কিশোরের বাবা আবদাল হোসেন খান বলেন, বড় ছেলে প্রথম স্ত্রীর সংসারে থাকত। দোকানদারিতে তাঁকে সহায়তা করার জন্য চার মাস আগে গ্রামের বাড়ি থেকে ছেলেকে নিয়ে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি যখন দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তিনি খবরটি পান। হতবাক আবদাল বলেন, ‘তারে (ছেলেকে) তার মায় (সৎ মা) খুব বেশি মায়া করত। মিলমিশ আছিল। এত মায়ার মইধ্যে কী ঘটল! আমি কারে লইয়া থাকমু...।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন