default-image

সিলেট নগরের চৌহাট্টায় অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ নিয়ে সংঘর্ষের সময় বন্দুকসহ আটক মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ফয়সল আহমদ ওরফে ফাহাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আরও দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশের বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। দুটি মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার রাতে তিনটি মামলা হয়। সংঘর্ষস্থল থেকে বন্দুকসহ আটক ফয়সল আহমদকে (৩৮) একমাত্র আসামি করে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান এই মামলার বাদী। ফয়সলকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার এসআই আবদুল মান্নান বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছেন। এই মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটির বাদী সিটি করপোরেশনের উপসহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত দাস। এই মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নগরীর কেন্দ্রস্থলের চৌহাট্টা এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক বিভাজক নির্মাণ করতে গিয়ে গতকাল দুপুরে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদের সময় হামলার মুখে পড়েন মেয়র ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপরও হামলা করেন পরিবহনশ্রমিকেরা। একপর্যায়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে কাউন্সিলর-পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। অবৈধ স্ট্যান্ডে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সিটি করপোরেশন ও পুলিশের ওপর হামলার দুটো মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্যাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সংঘর্ষস্থলের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে নেমেছে। তবে অহেতুক কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হবে। সংঘর্ষের ঘটনায় পরিবহনশ্রমিকদের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন