আবু বক্করের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বাড়ির পাশের সীমানায় সবুজ মিয়ার বাড়ি। তবে বৃষ্টি এলে আবু বক্করের ঘরের চালের পানি গড়িয়ে সবুজ মিয়ার সীমানায় যায়। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

আবু বক্করের পরিবারের ভাষ্য, আজ সকালে আবু বক্কর খাড়েরা গ্রামের বাজারে দুধ কিনতে যাচ্ছিলেন। বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে সবুজ মিয়া ও তাঁর লোকজন আবু বক্করকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে আবু বক্কর গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটে পড়েন। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এলে সবুজ মিয়া ও তাঁর লোকজন দৌড়ে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে আবু বক্করের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবু বক্করের স্ত্রী সুহেলা বেগম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্বামী একজন নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। সকালে দুধ আনতে বাজারে গিয়েছিলেন। বৃষ্টির পানি সীমানায় পড়ার বিরোধের কারণেই সবুজ মিয়া ও তাঁর লোকজন আমার স্বামীকে কুপিয়ে খুন করেছেন।’

এ ঘটনার পর থেকে সবুজ মিয়া ও তাঁর পরিবারের লোকজন গা–ঢাকা দিয়েছেন। তাই এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. কবির আহাম্মদ খান বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জেরে আবু বক্করকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, আবু বক্করের লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন