পটুয়াখালীর বাউফল
সেই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও মারধরের অভিযোগ
কনকদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সরকারি কর্মকর্তা এবং এক মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
সালিস করার নামে ১৪ বছরের কিশোরীকে বিয়ে করে সমালোচিত পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের (৬০) বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের মতো অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহের অভিযোগ প্রশ্নে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার এ আদেশ দেন।
ইতিপূর্বে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শাহিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা করে। সরকারি কর্মকর্তা এবং এক মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর করে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি। একাধিক সালিস বৈঠকে তিনি লোকজনকে মারধর করেছেন—এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রয়েছে।
এদিকে বিয়ের পরদিনই গত শনিবার ওই কিশোরী শাহিন হাওলাদারকে তালাক দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতার এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে বিব্রত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা।
শাহিন হাওলাদার কনকদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের অক্টোবরে হতদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকায় চাল বিক্রির কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। এ নিয়ে প্রথম আলোতে ‘বিত্তশালীরা পাচ্ছেন ১০ টাকার চাল, বঞ্চিত হতদরিদ্ররা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর তদন্তে নামে দুদক। তারা সত্যতা পেয়ে শাহিন হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে আরও ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি শাহিন হাওলাদার গ্রেপ্তার হন। ওই মামলায় একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মানিক লাল দাস। মামলাটি বিচারাধীন।
২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর কনকদিয়া বাজারে মো. আনছার উদ্দিন (৪৯) নামে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তাকে শাহিন হাওলাদার প্রকাশ্যে মারধর করেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনছার উদ্দিন মামলা করেন। ওই মামলায়ও শাহিন হাওলাদার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
চলতি বছরের ২৪ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুল হককে (৭০) কনকদিয়া বাজারে প্রকাশ্যে মারধর করে আবারও আলোচনার জন্ম দেন শাহিন হাওলাদার। ওই ঘটনায় ফজলুল হক আদালতে মামলা করেছেন।
সর্বশেষ এক তরুণ ও কিশোরীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সালিস বৈঠকে বসে গত শুক্রবার শাহিন হাওলাদার নিজেই মেয়েটিকে বিয়ে করে বসেন। অবশ্য পরের দিনই ওই কিশোরী চেয়ারম্যানকে তালাক দেয়। এ নিয়ে গতকাল রোববার প্রথম আলোতে ‘ইউপি চেয়ারম্যানের কাণ্ড: সালিস করার নামে নিজেই করলেন বাল্যবিবাহ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এসব বিষয়ে শাহিন হাওলাদার বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকরা হচ্ছে। আমার দ্বারা দলের উপকার ছাড়া ক্ষতি হয় না।’ কিশোরীকে তালাক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু মেয়েটি বিয়েটা ভালোভাবে নেয়নি, তাই পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় মেয়েটি তাঁকে তালাক দিয়ে চলে গেছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘তাঁর (শাহিন হাওলাদার) কার্যকলাপে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিব্রত, আমি নিজেও বিব্রত। অদৃশ্য কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।’