ট্রলারচালক মিলন খান বলেন, ‘রাত তিনটার দিকে দিয়াকুল গ্রামের সুগন্ধা নদীতে যাত্রীদের চিৎকার ও আগুন দেখে ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি আগুন থেকে বাঁচতে যাত্রীরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ভেসে আছেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে যাই। এলাকার লোকজন তাঁদের আশ্রয় দেন। গরম পোশাকের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের অনেকেই দগ্ধ ছিলেন। হাত-পা ভাঙা ছিল। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন ছিল। দিয়াকুল গ্রামের মানুষের সহায়তায় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অন্তত ৩০০ যাত্রী পারাপার করে তীরে ও হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেছি। আমি কারও কাছ থেকে কোনো ভাড়া নিইনি। টাকাই সব নয়। বিপদে মানুষকে সহায়তা করেছি, এটাও কম নয়।’

পোনাবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও দিয়াকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহীন আকন ঘটনার সময় আহত যাত্রীদের জন্য স্থানীয় একটি দোকান থেকে খাবারের ব্যবস্থা করেন। যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য ট্রলারের ব্যবস্থাও করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়েছি। তবে হতাহতের সংখ্যা কম হলে মনটা ভালো লাগত।’

ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চটি বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে থাকার সময় আগুন ধরে যায়। এতে এখন পর্যন্ত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ আছেন ৫১ জন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন