বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দুমকির মুরাদিয়া ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে মুরাদিয়া শাখানদী। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ওই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের আরসিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজাদ এন্টারপ্রাইজ এই কাজের দায়িত্ব পায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নদীর ওপর আগে একটি লোহার সেতু ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সেতু নির্মাণ শুরু হয়। পুরোনো লোহার সেতুটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ছোট ওই নদীর দুই দিকে বাঁধ দেওয়া হয়। এরপর সেতুর দুই পাড়ের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করে মে মাসে মূল সেতু নির্মাণ শুরু হয়। দুই পাশে বাঁধ দেওয়া স্থানের মাটি ফেলে ভরাট করে সেতুর নির্মাণে সেন্টারিংয়ের কাজও শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তবে মে মাসের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উঁচু জোয়ারের পানিতে নির্মাণাধীন সেতুর দুই পাশের বাঁধের মাটি সরে যায়। পানির চাপে সেতুর অবকাঠামো (সেন্টারিং ও ওপরে বাঁধানো রড) ভেঙে নদীতে পড়ে। এরপর থেকে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। গত জুনে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

এ সম্পর্কে আজাদ এন্টারপ্রাইজের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমানে জোয়ারের সময় পানি বাড়ছে এবং ওই খালে প্রবল স্রোত রয়েছে। এ কারণে সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। পানি কমলেই কাজ শুরু হবে।

সেতুর পশ্চিম পাড়ে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের জামলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আবদুল গণি দাখিল মাদ্রাসা, জামলা নুরানি মাদ্রাসা, ডাকঘরসহ বেশ কিছু শিক্ষা। পূর্বপাড়ে মুরাদিয়া ইউনিয়নে দক্ষিণ মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা, পশ্চিম মুরাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য মুরাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রভৃতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই পথ দিয়ে মুরাদিয়া এলাকার শিক্ষার্থীরা দুমকি সৃজনী বিদ্যানিকেতন, দুমকি জনতা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে।

গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর নির্মাণস্থান জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে। এ সময় কথা হয় নদীর পূর্ব পারে মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শাহজালাল কাজীর সঙ্গে। তিনি বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও দুই পারের বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাঁশ ও সুপারিগাছ দিয়ে সাঁকো বানানো হয়েছে। বর্তমানে জোয়ারের সময় পানি বাড়লেই সাঁকো ডুবে যাচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছে মেয়েরা।

দক্ষিণ মুরাদিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাবা মনি বলেন, ‘সাঁকোটি নড়বড়ে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তা ছাড়া জোয়ারের সময় সাঁকো ও সংলগ্ন রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যায়। কাপড়চোপড় ও বইপুস্তক ভিজে যায়।’

উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে নদীর প্রবল স্রোতে সেতুর সেন্টারিংয়ের কাজ করা যাচ্ছে না। পানি কমলেই কাজ শুরু হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন