বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কুয়াব) সভাপতি তোফায়েল আহমদ বলেন, তিনটি নৌপথে ১০টি জাহাজ চলাচল করে। এসব জাহাজের ধারণক্ষমতা ৩ হাজার ২০০ জন। এ হিসাবে গেল মৌসুমের পাঁচ মাসে (নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ) সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার পর্যটক। কিন্তু কাঠের ট্রলার ও স্পিডবোটে কতজন পর্যটক সেন্ট মার্টিনে গেছেন, এ তথ্য জাহাজমালিকদের কাছে নেই।

৩১ মার্চ থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন, কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন ও চট্টগ্রাম-সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলাচলকারী ১০টি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেন। এর মধ্যে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কিছু ট্রলার ও স্পিডবোটে করে ছয় শতাধিক পর্যটক দ্বীপে বেড়াতে আসেন।

পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় স্থান সেন্ট মার্টিন। তবে এটি পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিষদের কোনো তহবিল নেই। তারপরও আগামী পর্যটন মৌসুমের আগেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
মুজিবুর রহমান, সেন্ট মার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান, টেকনাফ, কক্সবাজার

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিয়েছে। সৈকতের জেটি, উত্তর ও পশ্চিম পয়েন্টের বালিয়াড়িতে যত দূর চোখ যায় শুধু ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে অস্বস্তি বোধ করছেন পর্যটকেরা। সৈকতের প্রায় দেড়-দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাচের বোতল, প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, আচারের প্যাকেট, পলিথিন, ক্যান, চায়ের কাপ, স্ট্র, বিস্কুটের প্যাকেট, মাছ ধরার জালের টুকরা, নাইলনের দড়িসহ বিভিন্ন অপচনশীল বর্জ্য। এ ছাড়া ছোট-বড় শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি যোগ হয় গৃহস্থালির বর্জ্যও। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর বর্জ্য যাচ্ছে সরাসরি সাগরে। এতে সৈকত পর্যটকদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

কয়েকজন পর্যটক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সৈকতজুড়ে ময়লা-আবর্জনার জন্য হাঁটাচলা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা খুবই জরুরি। এসব থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগ-জীবাণু ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে।

১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল সেন্ট মার্টিন, কক্সবাজার, টেকনাফ সৈকতসহ দেশের ছয়টি এলাকাকে সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক আসেন। তাঁরা অন্তত কয়েক হাজার কেজি বর্জ্য সৃষ্টি করেন। এসব ধারণের মতো ডাস্টবিন দ্বীপে নেই। মাঝেমধ্যে কিছু প্লাস্টিকের বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা হলেও বেশির ভাগ বর্জ্য যত্রতত্র পড়ে থাকে এবং সাগরে ভেসে যাচ্ছে।

দ্বীপের সুরক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পাঁচজন কর্মী আছেন। তাঁদের একজন আবদুল হামিদ বলেন, এখানে কোনো কর্মকর্তা নেই। ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলতে প্রতিনিয়ত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু পর্যটকেরাই তো পাত্তা দেন না। পরিবেশ অধিদপ্তর একা তো দ্বীপ রক্ষা করতে পারবে না।

সৈকত ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসনের বিচকর্মী সুপারভাইজার মো. জয়নাল বলেন, এখানে তাঁরা ছয়জন কর্মী আছেন। বর্তমানে দ্বীপে পর্যটক আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ঈদের ছুটিতে ট্রলার ও স্পিডবোটে করে ছয় শতাধিক পর্যটক বেড়াতে আসেন। তবে সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাউকে গোসলে নামতে দেওয়া হয়নি। সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে।

default-image

৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছৈয়দ আলম বলেন, বেড়াতে আসা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সেন্ট মার্টিন বোট মালিক সমিতির উদ্যোগে প্রতিবছর কয়েক হাজার কেজি বর্জ্য অপসারণ করা হলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়। সৈকত পরিষ্কার রাখতে হলে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হবে।

সেন্ট মার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় স্থান সেন্ট মার্টিন। তবে এটি পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিষদের কোনো তহবিল নেই। তারপরও আগামী পর্যটন মৌসুমের আগেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

মুজিবুর রহমান আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দ্বীপে কিছু সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। তাঁরা পর্যটক ও স্থানীয় ব্যক্তিদের স্বার্থে কিছুই করেন না। দ্বীপ ও সৈকতের পাড়ে দোকানিরা ডাব, পানীয় ও খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করে করেন। কিন্তু সৈকতপাড়ের দোকানি ও বেড়াতে আসা পর্যটকেরা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। এতে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ দেখা যাচ্ছে।

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কায়সার খসরু বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। প্রায় দেড় মাস আগে থেকে এ নৌপথে পর্যটক পরিবহন বন্ধ করা হয়েছে। সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল সেন্ট মার্টিন, কক্সবাজার, টেকনাফ সৈকতসহ দেশের ছয়টি এলাকাকে সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। তা সত্ত্বেও পর্যটকের অবাধ যাতায়াত, দ্বীপের ভারসাম্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ, কেয়াবন উজাড়, পাথর উত্তোলন করে নির্মাণকাজে ব্যবহারসহ পরিবেশ বিধ্বংসী নানা কাজ চলছেই। এতে গত দেড় যুগে দ্বীপের ভাঙনও প্রকট হয়েছে। এ ছাড়া শামুক, ঝিনুক, প্রবাল, শৈবাল ও পাথর আহরণ ও সরবরাহ চলছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিনে রয়েছে ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১৫৭-১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ২৪০ প্রজাতির মাছ, চার প্রজাতির উভচর ও ২৯ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী ও ১২০ প্রজাতির পাখি। এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, সবুজ সাগর কাছিম এবং জলপাইরঙা সাগর কাছিম প্রজাতির ডিম পাড়ার স্থান হিসেবে জায়গাটি প্রসিদ্ধ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন