default-image

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া এলাকার মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র থেকে ১৪ কিশোরী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের এক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ বা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়া বাকি সাত কিশোরীর কোনো সন্ধান পাননি।

কিশোরীদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রত্যাহার করা ওই কর্মকর্তা হলেন কেন্দ্রের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মরিয়ম খানম। গত বৃহস্পতিবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম তাঁকে প্রত্যাহার করেন। তবে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ফরিদা খানম প্রথম আলোকে আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জেলা প্রশাসন ও নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এখানে বেশির ভাগ মেয়ে স্বাভাবিক নয়। মেয়েদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক, পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করা ও বাক্‌প্রতিবন্ধী। সব বিষয়ে ভালোমন্দ বুঝে ওঠার সক্ষমতাও তাদের নেই। পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার যারা মূল পরিকল্পনাকারী, তারা বিবাহিত কিশোরী। ধারণা করা হচ্ছে, মামলার তারিখে আদালতে নেওয়া হলে তারা হয়তো কোনোভাবে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পরে তাদের বুদ্ধিতে হয়তো তারা পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে একই কায়দায় ১৭ জন কিশোরী পালিয়ে যাওয়ার পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, জনবল বৃদ্ধি করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি খোলামেলা জায়গায় করা হলেও ভেতরের পরিবেশ ভালো নয়। তাদের কষ্ট করে থাকতে হয়। তাই হেফাজতিদের পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে সম্প্রতি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যে তদন্তের কাজও শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

এই কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়া বাকি সাতজনের অবস্থান সম্পর্কে জানা গেছে। মাঝে দুই-তিন দিন পুলিশসহ প্রশাসনের লোকজন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় অভিযান চালানো যায়নি। কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও জনবলের অভাব এখনো আছে।
ফরিদা খানম, নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক

এ বিষয়ে নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ফরিদা খানম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়া বাকি সাতজনের অবস্থান সম্পর্কে জানা গেছে। মাঝে দুই-তিন দিন পুলিশসহ প্রশাসনের লোকজন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় অভিযান চালানো যায়নি। কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও জনবলের অভাব এখনো আছে। আশা করছি এসব সমস্যা সমাধান করা হবে। ’

ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ফরিদা খানম আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। ওই সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মরিয়ম খানমকে প্রত্যাহার করেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ওই নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র এবং পালিয়ে যাওয়া সাত কিশোরীকে দ্রুত আটক করার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাতে ওই কেন্দ্রের ভবনের তিনতলার জানালার গ্রিল ভেঙে ওড়না দিয়ে রশি বানিয়ে ১৪ হেফাজতি কিশোরী পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাতেই জয়দেবপুর রেল জংশন থেকে সাতজনকে আটক করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন