বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওয়াসার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি এক হাজার লিটার পানির মূল আবাসিকে ৬ দশমিক ৮১ টাকা এবং বাণিজ্যিকে ১৩ দশমিক ৬২ টাকায় নির্ধারণ করা হলো। নোটিশে নিচের দিকে পাইপের ব্যাস ও ভবনের তলার ভিত্তিতে নতুন মূল্য নির্ধারণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজশাহী ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি এক হাজার লিটার পানি উত্তোলন, পরিশোধন ও সরবরাহে ওয়াসার খরচ হয় ৮ টাকা ৯০ পয়সা। এত দিন আবাসিক সংযোগে প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম ধরা হতো ২ টাকা ২৭ পয়সা। দাম বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ৬ টাকা ৮১ পয়সা। বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি থেকে একই পরিমাণ পানির মূল্য ধরা হয়েছে ১৩ টাকা ৬২ পয়সা। এই পানির দাম আগে ছিল ৪ টাকা ৫৪ পয়সা। আগের মূল্যের তুলনায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয়ের ক্ষেত্রেই পানির দাম তিন গুণ বাড়ানো হচ্ছে।

পানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে রাজশাহী ওয়াসার বিজ্ঞপ্তি.pdf

এদিকে ওয়াসার যেসব সংযোগে মিটার নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে সংযোগ পাইপের ব্যাস এবং ভবনের তলার ওপর নির্ভর করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। আবাসিকে আধা ইঞ্চি পাইপে নিচতলার জন্য মাসে সর্বনিম্ন ১৫০ টাকা, ১০ তলার জন্য ৮২৫ টাকা মূল্য ধরা হয়েছে। এক ইঞ্চি পাইপে নিচতলায় ৩৭৫ টাকা এবং ১০ তলায় ২ হাজার ৭০ টাকা। দ্বিতীয় থেকে নবম তলা পর্যন্ত কিংবা ১০ তলার ওপরের তলার জন্য পানির বিল আনুপাতিক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পানির দাম বাড়ানো অযৌক্তিক দাবি করে রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী প্রথম আলোকে বলেন, রাজশাহী ওয়াসা বর্তমানে যে সেবা দিয়ে আসছে, তাতেই তারা টাকা বেশি নিচ্ছে। সকাল ও রাতের কিছু সময়ে পানি পাওয়া যায়। মাঝেমধ্যেই কালো পানি বের হয়। খাওয়া তো যায়ই না।

সেকেন্দার আলী আরও বলেন, করোনা কাটিয়ে কেবল ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, এই সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে গেল। এখন পানির দাম বাড়ালে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভাড়া বেড়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।

ওয়াসা বলেছিল তারা নগরবাসীকে সুপেয় পানি নিশ্চিত করবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা এটা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পানি পান করে পেটের পীড়াসহ নানা রোগে ভুগছে নগরবাসী।
জামাত খান, সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ

শিক্ষানগর রাজশাহীতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী মেস, বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। হঠাৎ পানির দাম তিন গুণ বাড়ানোতে মেস, বাসার ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা ইতিমধ্যে মেসমালিকের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি থেকে পানির বিল কিংবা ভাড়া বৃদ্ধির কথা শুনছেন। অনেক মেসমালিক ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে অজুহাত খুঁজছেন।

রাজশাহী মেসমালিক সমিতির সভাপতি মো. এনায়েতুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে পানির দাম বাড়ানো হলে সেটা আবারও শিক্ষার্থীদের মধ্যেই পড়বে। তাই তাঁরা চান, এই মুহূর্তে পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে ওয়াসা সরে আসুক। কারণ, শিক্ষার্থী, মেসমালিক কেউই ভালো নেই।

সম্প্রতি ওয়াসা পানি পরীক্ষা করে পাইপের পানিতে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পেয়েছে। এর সহনীয় মাত্রা শূন্য। অথচ রাজশাহী মহানগরের ওয়াসার পানিতে ‘কলোনি ফর্মিং ইউনিট’ এক হাজার পর্যন্ত পাওয়া গেছে। কলিফর্মের উপস্থিতি বিভিন্ন আন্ত্রিক ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি করে। মিশ্রিত পানি পানের মাধ্যমে ডায়রিয়া, আমাশয়, রক্ত আমাশয়, কলেরা, টাইফয়েড ছাড়াও ভাইরাল হেপাটাইটিস (জন্ডিস) রোগের সূচনা করে।

এ খবরে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছেই। এমন পরিস্থিতিতে পানির দাম বাড়ানো অযৌক্তিক বলে মনে করছেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান। তিনি বলেন, ওয়াসা বলেছিল তারা নগরবাসীকে সুপেয় পানি নিশ্চিত করবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা এটা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পানি পান করে পেটের পীড়াসহ নানা রোগে ভুগছে নগরবাসী। এই সময়ে পানির দাম বাড়ানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ওয়াসা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে নগরবাসীকে নিয়ে তাঁরা আন্দোলনের ডাক দেবেন।

রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জাকীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর সবশেষ ২০১৪ সালে পানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া পানির মূল্য এখনো দেশের অন্যান্য স্থানের পানির মূল্যের চেয়ে অনেক কম। তাঁরা এত দিন অনেক কম মূল্যে পানি সেবা দিয়েছেন। এখন প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু স্বায়ত্তশাসিত, সরকারের ওপর নির্ভর করে চলছে। এটাকে নিজের আয় দিয়ে চলার মতো সক্ষমতা অর্জন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পানির উৎপাদন খরচও বেড়েছে, সেবার মানও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাই পানির দাম বাড়ানো হয়েছে।

সেবার মান নিয়ে নগরবাসীর অসন্তোষের বিষয়ে জাকীর হোসেন বলেন, সম্প্রতি নগরজুড়ে বিপুল পরিমাণে উন্নয়নকাজ চলছে। সে জন্য অনেক সময় পাইপ ফেটে বা কেটে যায়। তাঁরা চেষ্টা করছেন নগরবাসীকে আরও কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানি দিতে পারেন।

সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখাকে আলাদা করে ২০১০ সালের ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠা হয় রাজশাহী ওয়াসা। এখন ১০৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে তা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করছে ওয়াসা। নগরে পানির চাহিদা প্রতিদিন ১১ কোটি ৩২ লাখ লিটার। তবে ওয়াসা ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারে। ৭১২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে এ পানি নগরে সরবরাহ করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন