বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, সরকারি জায়গায় ভ্যানগাড়িতে বসে পচা-নষ্ট ও খাবার অনুপযোগী মাছ রং মিশিয়ে বাসি তেলে ভেজে পর্যটকদের খাওয়ানো হচ্ছে। এসব ভাজা মাছ ও খাবার খেয়ে প্রতিদিনই পর্যটকেরা অসুস্থ হচ্ছেন। এসব দোকানে খাবারের মূল্যতালিকাও থাকে না। ফলে পর্যটকদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো দাম নেন দোকানিরা।

বাজার থেকে এক কেজি পচা লইট্যা মাছ কিনতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। এক কেজিতে ছোট আকৃতির লইট্যা হয় ৩০-৪০টি। এসব পচা লইট্যায় ভিনেগার দিয়ে সতেজ করা হয়। আর পচা গন্ধ দূর করতে মেশানো হয় হলুদসহ অতিরিক্ত মসলা।
ভাজা মাছ বিক্রেতা

সম্প্রতি সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের দিকে গিয়ে দেখা গেল, সড়কের প্রবেশমুখে ভ্যানগাড়িতে ভাজা মাছ ও কাঁকড়া বিক্রি করছেন মো. রুবেল (৩৪) নামের এক যুবক। তাঁর ভ্যানগাড়িতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে লইট্যা, চিংড়ি, পোপা, মাইট্যা, লবস্টার, কাঁকড়া, কালোচান্দা, টেকচান্দা, রাঙাচকি, মাইট্যা—এমন হরেক রকমের ভাজা মাছ। প্রতিটি লইট্যা বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়, কাঁকড়া ৬০ থেকে ১২০ টাকায়, মাইট্যা ৬০ থেকে ২০০ টাকায় আর চিংড়ি ১৫ থেকে ৫০ টাকায়। কাঁচা মাছের ওপর হলুদমিশ্রিত ময়দার প্রলেপ দিয়ে ভাজলে মচমচে দেখায় এসব মাছ। ভ্যানগাড়ি ঘিরে এসব ভাজা মাছ খাচ্ছেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। তবে তাঁর দোকানে কোনো মূল্যতালিকা টাঙানো নেই। যার কাছ থেকে যেমন দাম নিচ্ছেন।

এভাবে মাছ বিক্রি থেকে কেমন লাভ হয়, জানতে চাইলে দোকানমালিক মো. রুবেল বলেন, ‘ দিনে ১৭ হাজার টাকার ভাজা মাছ ও কাঁকড়া বিক্রি করেছি। মাছ কেনা, ময়দা, তেলসহ আনুষঙ্গিক খাতে ছয় হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। লাভ থাকে ১১ হাজার টাকা। এর মধ্যে অবশ্য কয়েক হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়।’

ভাজা মাছ খেতে আসা পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে আছে লইট্যা ও চিংড়ি মাছ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভাজা মাছ বিক্রেতা বলেন, বাজার থেকে এক কেজি পচা লইট্যা মাছ কিনতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। এক কেজিতে ছোট আকৃতির লইট্যা হয় ৩০-৪০টি। এসব পচা লইট্যায় ভিনেগার দিয়ে সতেজ করা হয়। আর পচা গন্ধ দূর করতে মেশানো হয় হলুদসহ অতিরিক্ত মসলা। এরপর মাছের ওপর ময়দায় প্রলেপ দিয়ে আগুনে ভাজলে এর আসল-নকল পরখ করা কঠিন হয়ে যায় পর্যটকদের জন্য। এ ছাড়া রাতের বেলায় যখন গাড়িগুলোতে রঙিন বাল্ব জ্বালানো থাকে, তখন মাছের রং উজ্জ্বল দেখায়।

সৈকত এলাকাসহ সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ভাজা মাছ বিক্রির ভ্রাম্যমাণ দোকান আছে ৭০-৮০টি। কোনোটির বৈধ লাইসেন্স নেই। দোকানগুলোতে রাতের বেলা রঙিন বাতি জ্বালিয়ে বেচা–বিক্রি হয় পচা-বাসি মাছ।
ফজলুল কাদের চৌধুরী, ক্যাব কক্সবাজার জেলার সভাপতি

ভ্যানগাড়িতে ভাজা মাছ বিক্রি করেন কক্সবাজার নুনিয়াছটা এলাকার আবুল কালাম (৪৫)। তিনি বলেন, দিনের বেলা ভাজা মাছ বিক্রি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এসে জরিমানা করেন। সন্ধ্যা রাতে বিক্রি করতে সুবিধা। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকেন না। তবে স্থানীয় মাস্তান, বিচকর্মী, পুলিশসহ বিভিন্ন খাতে প্রতি রাতে দু–তিন হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক গড়ে হাজার দশেক টাকা লাভ থাকে।

default-image

১০০ টাকায় একটি ভাজা কাঁকড়া ও ৩০ টাকায় দুটি লইট্যা মাছ কিনে খাচ্ছিলেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে ঘুরতে আসা সাজ্জাদ-জেসমিন দম্পতি। খোলা জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাছ খাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেসমিন (২৩) বলেন, ‘সবাই খাচ্ছেন। তাই আমরাও টেস্ট করে দেখছি। মচমচে ভাজা মাছ খেতে ভালোই লাগছে।’ পরে ভ্যানগাড়ির নিচে বালতিতে রাখা পচা মাছ দেখালে তাঁরা চমকে ওঠেন। সাজ্জাদ বলেন, ‘এটা তো বড় ধরনের প্রতারণা। প্রশাসন এসব দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না কেন?’

সরকারি জায়গায় ভ্যানগাড়িতে বসে পচা-নষ্ট ও খাবার অনুপযোগী মাছ রং মিশিয়ে বাসি তেলে ভেজে পর্যটকদের খাওয়ানো হচ্ছে। এসব দোকানে খাবারের মূল্যতালিকাও থাকে না। ইচ্ছেমতো দাম নেন দোকানিরা।
আবুল কাশেম সিকদার, ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা

এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের একার পক্ষে এসব দোকান তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পুলিশ সহযোগিতা করবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বলেন, ভেজাল খাবার বিক্রি বন্ধে প্রায় সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। সন্ধ্যায় যেসব দোকানে ভাজা মাছ বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর গুণমান পরীক্ষা করা হবে। কোনো সমস্যা পেলে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন